আড়াই ফুটের মা দুর্গা একা হাতে তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিল এই সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র!

আর সাত দিনও বাকি নেই সপরিবারে মর্ত্যে পা রাখতে চলেছেন ঊমা। দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি প্রায় শেষ লগ্নে কিন্তু এবার করোনা আবহে আনন্দে অনেকটাই ভাঁটা পড়েছে। জায়গায় জায়গায় মন্ডপের আয়তন কমেছে, প্রতিমা তৈরি হচ্ছে ছোট করে। আনন্দের থেকেও আগে মানুষকে সুরক্ষিত রাখাই এই বছরের পুজোর আসল লক্ষ্য।এর মধ্যেই একটা অভাবনীয় কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেছে হেমতাবাদের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র মনাঙ্ক।

বাড়িতে বসেই সে বানিয়ে ফেলেছে আড়াই ফুট এর দুর্গা মূর্তি সঙ্গে রয়েছে লক্ষ্মী,সরস্বতী, কার্তিক ,গণেশ। তার এত সুন্দর শিল্পকলা সোশ্যাল মিডিয়ায় আসতেই ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।ছোট থেকেই পরিবারের সকলের সঙ্গে বাড়ির মন্ডপ দুর্গা পুজোর অঞ্জলি দিত এই সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র। ঠাকুরের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকত এই ভাবুক ক্ষুদে শিল্পী। মাঝেমাঝেই বাবার কাছে বায়না করত “কুমোরটুলি যাব, ঠাকুর বানানো দেখব” এবং তার বাবা তার সেই বায়না রাখতেন।মন দিয়ে সেখানে কীভাবে কারিগররা মা দুর্গাকে মৃন্ময়ী থেকে চিন্ময়ী রূপ দিচ্ছেন তা অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখত মনাঙ্ক। সেই থেকেই মাথায় ঢুকে ছিল যে নিজেই মূর্তি বানাবো এবার। তাই বাবা-মার বকুনি খেয়ে ও এবার নিজের সে স্বপ্ন সফল করলো হেমতাবাদ সারদা বিদ্যামন্দির এর সপ্তম শ্রেণী এই ছাত্র।

তার পড়ার ঘরের এক পাশেই আড়াই ফুট এর দুর্গা মা অবস্থান করছেন।মূর্তিতে তুলির টান দিতে দিতেই মনাঙ্ক আরও জানালো যে, সে যখন আরো ছোট ছিল তখন থেকেই তার ইচ্ছা ছিল সে প্রতিমা বানাবে। এর আগেও একবার কালী ঠাকুরের প্রতিমাও বানিয়েছিল। এমনকি গত বছরও দুর্গা ঠাকুরের মূর্তি বানিয়ে ছিল মনাঙ্ক। তবে সেক্ষেত্রে তার অংকন শিক্ষক সাহায্য করেছিলেন এবং প্রতিমা তৈরীর সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে তার পরিবারের সদস্যরাই সাহায্য করেছিলেন।

ছয় মাস ধরে লকডাউনে স্কুল বন্ধ তাই বাড়িতে বসে অনলাইনে পড়াশোনা সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিমা তৈরীর কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেছে মনাঙ্ক। এবছর রথযাত্রার পর থেকে কাঠামো তৈরীর মধ্যে দিয়ে মনাঙ্ক মা দুর্গার প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেছিল।

মা তনুশ্রী ভৌমিক জানালেন, বাড়িতে বসেই মনাঙ্ক প্রতিমা তৈরীর কাজ করছে এবং তা শেষও হতে চলেছে। গতবছর তার বাড়ির পুজো তে তার তৈরি ঠাকুরকেও পুজো করা হয়েছিল। এ বছরও তাদের বাড়ির মা দুর্গার সঙ্গে তাঁর তৈরি করা মা দুর্গার প্রতিমা পুজো করা হবে। তার ইচ্ছা ভবিষ্যতে সে আরো ভালো করে প্রতিমা তৈরি করবে। তার এই বিরল প্রতিভায় তার পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত গর্বিত।

RELATED Articles