Disabled food delivery boy: ছেলেটা দুই পা পোলিওতে আক্রান্ত। হাঁটার ক্ষমতা পর্যন্ত নেই। শরীরের প্রতিবন্ধকতা নিয়েই দিনে ১৬ ঘণ্টা সুইগির খাবার ডেলিভারি বয়ের (Disabled food delivery boy) কাজ করে সে। এই পা নিয়ে সে ট্রেক করে ঘুরে এসেছে অমরনাথ, কেদারনাথ, তামিলনাড়ুর পর্বতমালাই সিদ্ধর্মলাই ও ঋষিকেশের মতো জায়গাতে। অবাক লাগছে শুনে? টি. বৈথেশ্বরণ তামিলনাড়ুর তিরুচিতে ফুড ডেলিভারি করে এই ছেলেটি। বৈথেশ্বরণের মা নেই। বাড়িতে রয়েছে স্ত্রী আর বাবা। অভাবের সংসারে বসে থাকলে চলবে কি করে। তাই সংসারের হাল ধরতে এই প্রতিবন্ধকতা নিয়েই ফুড ডেলিভারি করছে ছেলেটা (Disabled food delivery boy)।
রাস্তায় বেরোলে আপনার চোখে পড়বে বৈথেশ্বরণের মতো অনেক মানুষকে। যারা স্টেশন চত্বরে এবার রাস্তাঘাটে বসে ভিক্ষাবৃত্তি করেন। এভাবেই তাদের জীবন নির্বাহ করেন। আবার কেউ কেউ কাজ করার ভয়ে ভিখারী সেজে ঘুরে বেড়ান। যাতে কষ্ট করে খেতে না হয়। আর এই মানুষটা এমন প্রতিবন্ধকতা (Disabled food delivery boy) অবস্থাতেই পিঠে খাবারের ব্যাগ নিয়ে মাথা উঁচু করে সৎ পথে খেটে খাচ্ছে। বৈথেশ্বরণের মাত্র দু বছর বয়স থেকেই পোলিও ধরা পড়ে। তারপর থেকে আর কখনো হাঁটতে পারেননি ছেলেটা। মাত্র ৭ বছর বয়সে মাকে হারিয়ে ফেলে। বৈথেশ্বরণের বাবা সব সময় বুঝেছেন যে কোনভাবেই তাকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে (Disabled food delivery boy)। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে না পারলে গোটা জীবনটাই বৃথা। তাই বাবার কথা মেনে মন দিয়ে পড়াশোনা শিখেছে বৈথেশ্বরণ। নিজের প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে তামিল ভাষায় মাস্টার্স অবধি পড়েছেন বৈথেশ্বরণ।
দরিদ্র পরিবারের ছেলে হওয়ায় বাবার পাশে দাঁড়াতে ১৪ বছর বয়স থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি কাজও করে বৈথেশ্বরণ। সম্প্রতি টুইটারে তার রোজকারের লড়াইয়ের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে বৈথেশ্বরণের পরনে ফুড ডেলিভারি অ্যাপের পোশাক, পিঠে ব্যাগ। এই নিয়েই একটি ফ্ল্যাট থেকে ডেলিভারি(Disabled food delivery boy) করে বেরোচ্ছে সে। দুটো হাত দিয়ে মাটিতে ঘষে ঘষে হামাগুড়ি দিয়ে স্কুটিতে গিয়ে উঠছে।
বৈথেশ্বরণের দিন শুরু হয় সকাল ছটায়। সকাল ছয়টা থেকে এই কাজে বেরিয়ে যায় সে। বেলা বাড়লেই বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার নিয়ে ডেলিভারি করতে শুরু করেন তিনি। স্কুটিতে পড়েই খাবার ডেলিভারি করেন বৈথেশ্বরণ। তবে কেন ফুট ডেলিভারি কেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি। এর উত্তরে বৈথেশ্বরণ (Disabled food delivery boy) বলেছেন, বিভিন্ন জায়গায় চাকরির পরীক্ষা দিয়েছেন। কোথাও সুযোগ পাননি। তার শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কাছে হেরে গিয়েছে মেধা। তামিলনাড়ু পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় বসেছেন বৈথেশ্বরণ। কিন্তু সেখানেও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাকে।
সেই কারণে অগত্যা ফুড ডেলিভারির পেশাকে বেছে নিয়েছেন ৩৬ বছরের বৈথেশ্বরণ (Disabled food delivery boy)। ফুড ডেলিভারির পাশাপাশি একটি হেলথ কেয়ার ফার্মেও একজন সিনিয়র এক্সিকিউটিভ পদে কাজ করেন বৈথেশ্বরণ। প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে রোজ খেটে চলেছে বৈথেশ্বরণ। দেখে বোঝার উপায় নেই তার দুটো পা অচল। যে মানুষটার এত মনের জোর, তার কাছে কোন বাধা এই বাধা নয়।






