নয়াদিল্লি (New Delhi) ও ওয়াশিংটনের (Washington) সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরেই কৌশলগত বোঝাপড়ার মধ্যে রয়েছে। বাণিজ্য থেকে প্রতিরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন থেকে প্রযুক্তি—বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করেছে। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। তবে কূটনৈতিক বোঝাপড়ার পাশাপাশি মাঝেমধ্যে কিছু ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ দেখা যায়। কিছুদিন আগেই আমেরিকা ভারতকে ঘিরে একাধিক বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছে, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি একটি রিপোর্ট সামনে আসার পরই বিতর্ক আরও বেড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ভারতের নির্বাচনে ভোটদানের হার বাড়ানোর নামে ২১ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে মার্কিন সরকার। এই দাবি ঘিরে ভারতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা-মন্ত্রীরা প্রশ্ন তুলেছেন, আমেরিকার এই পদক্ষেপ কি ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিদেশি হস্তক্ষেপ নয়? এ নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে যখন এলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি জানায়, এই অর্থ খরচ বন্ধ করা হবে।
এবার এই বিতর্কে তেল ঢাললেন খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজ থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলতে শোনা যায়, “ভারতে ভোটের হার বৃদ্ধির জন্য আমাদের কেন ২১ মিলিয়ন ডলার খরচ করতে হবে? আমার মনে হয়, ওরা অন্য কাউকে ভোটে জেতাতে চেয়েছিল।” ট্রাম্প আরও বলেন, “আমরা ভারত সরকারকে এই বিষয়টি জানাতে হবে। এটা বিশাল বড় ব্রেকথ্রু।” তিনি মনে করিয়ে দেন, “আমাদের দেশে রাশিয়া ২০০০ ডলার বিজ্ঞাপনের জন্য খরচ করেছিল, আর সেটা নিয়ে কত বিতর্ক হয়েছে। তাহলে ২১ মিলিয়ন ডলার খরচের বিষয়টি কত বড় ইস্যু হতে পারে ভাবুন!”
আরও পড়ুনঃ “শুভেন্দু থাকবেন না, বিজেপিও থাকবে না!” – বিস্ফোরক দাবি কুণাল ঘোষের
বিষয়টি নিয়ে বিজেপি প্রথম থেকেই সরব হয়েছে। বিজেপি নেতা অমিত মালব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বলেন, “২১ মিলিয়ন ডলার খরচ? এটাই তো ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিদেশি হস্তক্ষেপ। এর থেকে কারা লাভবান হচ্ছে? নিশ্চিতভাবেই শাসকদল নয়।” বিজেপি সাংসদ মহেশ জেঠমালানি দাবি করেছেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত এরিক গারসেট্টির সঙ্গে ইউএসএইডের প্রাক্তন ভারতীয় প্রধান বীণা রেড্ডি ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতেন। এই পুরো পরিকল্পনার পেছনে ছিলেন প্রাক্তন মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেট অ্যান্টনি ব্লিনকেন।
তবে এখানেই বিতর্ক শেষ নয়, বরং আরও বড় চমক অপেক্ষা করছিল। নির্বাচন কমিশনের প্রাক্তন প্রধান এসওয়াই কুরেশি স্বীকার করেছেন, ইউএসএইডের সঙ্গে কমিশনের একটি চুক্তি হয়েছিল, তবে তিনি দাবি করেন, সেই চুক্তিতে কোনও আর্থিক লেনদেনের কথা উল্লেখ ছিল না। অন্যদিকে, ফরাসি সংবাদমাধ্যম মিডিয়াপার্টের এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, জর্জ সোরোসের মতো ব্যক্তিত্বও ভারতের বিষয়ে ‘ভুয়ো প্রচার’ ছড়ানোর জন্য নানা আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে কাজ করছিলেন। এই বিতর্কে বিজেপি একাধিকবার বাইডেন প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলেছে। সব মিলিয়ে, আমেরিকার ২১ মিলিয়ন ডলার খরচের বিষয়টি ভারতীয় রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার!





