প্রথমবার রাজনীতির ময়দানে এসেই একেবারে কেল্লাফতে করে দিয়েছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (Rachana Banerjee)। হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। প্রায় তিন মাস ধরে শুটিং সামলে লাগাতার প্রচার করেছেন তিনি। তার প্রচার জুড়ে তৈরি হয়েছিল নানান বিতর্ক। রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটা কথাতে তৈরি হয়েছে হাজার হাজার মিমস। সমাজমাধ্যমে মিমের বন্যা বয়ে গিয়েছিল। তবে হুগলি লোকসভা কেন্দ্রে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rachana Banerjee) জিতে গিয়ে সেই মিম প্রস্তুতকারকদেরই ধন্যবাদ জানালেন। তবে এবার কি দিদি নাম্বার ওয়ান এর মঞ্চ ছেড়ে একেবারে জনসেবাতে লেগে পড়বেন তিনি। জয়ের পর সাক্ষাৎকারে ধরা পরল তার ভবিষ্যতের চিন্তাধারা।
সাক্ষাৎকারে জয়ের পর কেমন লাগছে তার মনের কথা জানিয়েছেন রচনা (Rachana Banerjee)। তিনি (Rachana Banerjee) বলেছেন, “ভাল লাগছে, সব থেকে ভাল লাগছে তৃণমূলের এই জয়।” সবার প্রথমে সময় দেবেন তার ছেলেকে। রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rachana Banerjee) কথায়,”গত কয়েক মাসে একদম সময় দিতে পারিনি ছেলেকে। জেতার পর আমাকে বলেছে, ‘মা, আমাকে এ বার সময় দেবে’। ওকে নিয়ে ঘুরতে যাব আগে।”
শেষ হবে দিদি নাম্বার ওয়ান (Rachana Banerjee)?
সংসদ হিসেবে নতুন দায়িত্ব বাড়বে তবে কি দিদি নাম্বার ওয়ানের মঞ্চ থেকে বিদায় নেবেন। এ প্রশ্নের উত্তরের রচনা (Rachana Banerjee) বলেছেন, “কোনও দিকেই অসুবিধে হবে না। দুই দিকের দায়িত্বই পালন করবেন তিনি। হয়তো তাঁর কষ্ট হবে, কিন্তু তিনি করতে পারবেন নিশ্চিত।” রচনার এই কথাতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বন্ধ হচ্ছে না জি বাংলার জনপ্রিয় শো দিদি নাম্বার ওয়ান। দশ বছরের বেশি সময় ধরে জি বাংলার পর্দায় দর্শক টানছে এই শো। সিনেমার নায়িকা হিসেবে যতটা জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তার থেকেও বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি দিদি নাম্বার ওয়ান এর মঞ্চে। ঘরের মা বোনেদের কাছের মানুষ হয়ে উঠেছেন তিনি। মানুষের মনের দুঃখ কষ্ট বুঝতে যেন তৎপর তিনি। এমনই একজন আজ হুগলির লোকসভা কেন্দ্রের বিজয়ী প্রার্থী। অনেকেই মনে পড়ছে জয়ী হতে সাহায্য করেছে দিদি নাম্বার ওয়ানে রচনার ভাবভঙ্গি।
রচনা (Rachana Banerjee) আর জয়ের নেপথ্যে নাকি রয়েছে মিমস। গোটা পড়ছো আর পর্ব জুড়ে তাকে নিয়ে তৈরি হয়েছে অজস্র মিম। জেতার পর এই মিম প্রসঙ্গে রচনা বলছেন, “আমি তো তাঁদের দোষ দিচ্ছি না। তাঁদের রুজি-রোজগারের জায়গা। এই মিমের কারণে যে প্রচারটা পেয়েছি, তা আমার পক্ষেই গিয়েছে। কারণে,যে কোনও ধরনের প্রচারই কিন্তু আসলে প্রচার । ওঁরা আমাকে যে হাইপটা দিয়েছেন, তাতে সারা পৃথিবীর লোক জেনে গিয়েছে কে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়।”
রচনার (Rachna Banerjee) রাজনীতিতে আসা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মত
রচনা ব্যানার্জীর (Rachana Banerjee) ভোটের লড়াইয়ে সঙ্গ দিয়েছেন স্বামী প্রবাল বসু। বউয়ের জয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া, “ভীষণ ভালো লাগছে। এই অনুভূতি ভাষায় বোঝানো যাবে না। আসলে রচনা এমনই। ও যা ছোঁয় সেটাই সোনা হয়ে যায়। যেখানে হাত দিয়েছে সেখানেই সাফল্য পেয়েছে।”
রচনা (Rachana Banerjee) আগেই জানিয়েছিলেন তিনি রাজি ছিলেন না প্রথমে ভোটে দাঁড়াতে। ছেলে রৌনকের পড়াশোনার ক্ষতির কথা ভাবিয়েছিল মা রচনাকে। ছেলের কথা ভেবে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা ফেলতে পারেননি। রচনা ছেলে কলেজে পড়ছে জানতে পেরেই মমতা পরামর্শ দিয়েছিল সে সামলে যেতে পারবে সবকিছুই। তাই মায়ের দায়িত্ব থেকে সময় বের করা সম্ভব। ছেলে রৌনকও চাইনি, মা আসুক রাজনীতিতে।





