ফিরে আসবে মালিক এই আশা বুকে নিয়েই, একটা কুকুর দীর্ঘ ৯ বছর অপেক্ষা করত রেল স্টেশনে। কুকুরটির মনিব মারা গেছিল, তবে পোষ্য কুকুরটি সেটা বুঝতে পারেনি। তাই মনিবকে একবার দেখতে রোজ রেলস্টেশনে গিয়ে অপেক্ষা করত কুকুরটি। কুকুরটার নাম হাচিকো (Hachiko)। আকিতা ইনু প্রজাতির এই জাপানি কুকুরটা সকলকে দেখিয়ে দিয়েছিল একটা কুকুর তার মালিককে কতটা ভালোবাসে। হাচিকো-কে নিয়ে হলিউডে তৈরি হয়েছে একটা চলচ্চিত্র। এই ছবিটির নাম হাচি দ্যা ডগস টেল।
হাচিকো (Hachiko) ১৯২৩ সালের ১০ই নভেম্বর জাপানের একটি শহরে জন্মগ্রহণ করে। জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নামকরা কৃষি বিজ্ঞানী ও প্রফেসর হিদেসাবুরু উয়েনোর ছিল আকিতা ইনু প্রজাতির কুকুর। ১৯২৪ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি কুড়ি ঘন্টা ট্রেন জার্নি করে হাচিকো-কে টোকিওতে নিয়ে এসেছিলেন প্রফেসার উয়েনো। ছোট্ট কুকুরছানাতে তখন বয়স ছিল মাত্র এক। ট্রেন জার্নিতে তার শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়। সবাই ভেবেছিল কুকুরছানাটি আর বাঁচবে না। হাচিকো-কে যত্ন করে বাঁচিয়ে তুলেছিলেন ওই প্রফেসর এবং তার স্ত্রী। ওই প্রফেসর সপ্তাহে কয়েকবার ট্রেনে করে কর্মস্থলে যেতেন। তাকে রোজ সকালে টোকিওর শিবুয়্যা স্টেশনে ছাড়তে যেত হাচিকো।
প্রফেসর যতক্ষণ না কাজ সেরে স্টেশনে ফিরছেন ততক্ষণ পর্যন্ত স্টেশনে বসেই অপেক্ষা করত কুকুরটি (Hachiko)। প্রফেসরকে নিয়ে তবেই হাচিকো বাড়ি ফিরত। হাচিকো ছাড়াও ওই প্রফেসরের আরও দুটো কুকুর ছিল তাদের প্রত্যেককে সন্তানের মত ভালোবাসা দিয়ে বড় করে তুলেছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত মাত্র ৫৩ বছর বয়সে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে মারা যান ওই প্রফেসর। হাচিকোর সঙ্গে মাত্র ১৬ মাস কাটাতে পেরেছিলেন প্রফেসর। এর মৃত্যুর পর হাচিকোর বাসস্থান হয় প্রফেসরের মালির বাড়িতে। সেখান থেকে রোজ কুকুরটি রেল স্টেশনে গিয়ে টিকিট কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকত। যতগুলো ট্রেন আসতো সব ট্রেনের সকল যাত্রীদের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকত। ঘন্টার পর ঘন্টা প্রফেসরের পরিচিত মুখকে খুঁজতো হাচিকো।
একটা কুকুরকে প্রতিনিয়ত স্টেশনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বিরক্ত বোধ করত অনেকেই। এমনকি স্টেশনের কর্মচারীরা, হকাররা কুকুরটিকে (Hachiko) লাঠি নিয়ে তাড়াও করেছে বেশ কয়েকবার। গায়ে জল ঢেলে দিলেও স্টেশন থেকে নড়তো না কুকুরটি। তার মালিক যে একেবারেই চলে গেছে তা বুঝে উঠতে পারেনি কুকুরটি। তাই টানা ন’বছর স্টেশনে এসে অপেক্ষা করত। একটা সময় ট্রেনে কর্তৃপক্ষদের চোখে হাচিকোর প্রভু ভক্তি ধরা পড়ে।
এরপর ১৯৩২ সালে জাপানি পত্রিকা আসাহি শিম্বুনে প্রথমবার প্রকাশিত হয় হাচিকোর (Hachiko) প্রভু ভক্তির কাহিনী। তারপরেই গোটা বিশ্বে বিখ্যাত হয়ে ওঠে হাচিকো। ওই কুকুরটিকে দেখতে দূর দূরান্ত থেকে লোক আসত। অনেকে আবার হাচিকোর জন্য খাবারও আনত। ১৯৩৫ সালের ৮ই মার্চ ১১ বছর বয়সে হাচিকোর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর জাপানের পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় হাচিকোর মৃত্যুর সংবাদ স্থান পেয়েছিল। হাচিকোর স্মরণে প্রায় আট লাখ ইয়েন চাঁদা উঠেছিল। যা দিয়ে হাচিকোর মূর্তি স্থাপন করা হয় টোকিওর শিবুয়্যা স্টেশনের বাইরে।





“হিরণের বাড়িতে দু’টো বউ, সোহমের কিন্তু একটাই বউ…” দলীয় প্রার্থীর প্রশংসা করে, বিপক্ষ তারকা প্রার্থীকে খোঁচা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের! নির্বাচনের প্রাক্কালে শাসকদল বনাম বিজেপির সংঘাতে উত্তেজনা তুঙ্গে!