বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি ঘিরে দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে ক্রমশ বাড়ছে উদ্বেগ। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। গত কয়েক মাসে প্রতিবেশী দেশটি নিয়ে যে নানা খবর সামনে এসেছে, তা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনে দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা ও তাদের প্রশাসনিক প্রস্তুতি। তবে ঘটনাগুলোর আসল ব্যাখ্যা নিয়ে সেখানে তীব্র মতভেদ তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক দুই শিবিরে।
হাসিনা সরকারের পতনের পরে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনুস। তাঁর দাবি—দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুদের উপর যে হামলার ঘটনা ঘটছে, এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা মাত্র। রাজনৈতিক শত্রুতা কিংবা ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে এসব ঘটছে বলে তাঁর বক্তব্য। কিন্তু এই ব্যাখ্যা প্রথম থেকেই মানতে নারাজ বাংলাদেশের একটি বড় অংশ। কারণ হামলার ধরন, একইসময়ে একাধিক জায়গায় অশান্তির বিস্তার—এসব যেন অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই বিতর্কের মধ্যেই মুখ খুললেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যিনি বর্তমানে ভারতের রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। তিনি সরাসরি দাবি করলেন—এই ঘটনাগুলো মোটেই বিচ্ছিন্ন নয়, বরং “নির্দিষ্ট টার্গেট করে” হামলা চলছে হিন্দু ও খ্রিস্টানদের উপর। তাঁর মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মৌলবাদী শক্তি আরও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এবং সংখ্যালঘুরা আগের তুলনায় বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এই মন্তব্য ইউনুসের বক্তব্যকে কঠোর ভাবে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
জানা যাচ্ছে, ছাত্র আন্দোলনের জেরে গত জুলাই-আগস্টে পতনের পর থেকেই হাসিনা দেশের বাইরে। এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলার রায় ঘোষিত হবে ১৭ নভেম্বর। অন্যদিকে, বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও আওয়ামি লিগ নানা আন্দোলন করছেন—কোথাও লকডাউন তো কোথাও শাটডাউন। এই অস্থিরতার মধ্যেই ইউনুস এবং হাসিনার মতবিরোধ দেশটির রাজনীতিতে নতুন চাপে ফেলেছে প্রশাসনকে। বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা প্রশ্নে দুই পক্ষের বিপরীত অবস্থান আরও বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
আরও পড়ুনঃ Congress : কংগ্রেসে চরম অস্বস্তি! রাহুলের যাত্রা ‘শূন্য’ আসন—বিহার হার কি ভেতরের ভুল, নাকি ভোট চুরি? দিল্লিতে জরুরি বৈঠকে তীব্র চঞ্চল্য!
হাসিনা তাঁর সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, তাঁর শাসনামলে ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবেশ বজায় ছিল এবং সংখ্যালঘুরা নিরাপদ ছিলেন। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন সংখ্যালঘুদের রক্ষা করতে একেবারেই ব্যর্থ। তিনি অভিযোগ করেন—মন্দিরে হামলা, দোকানপাটে লুট, পরিবারকে হুমকি—এসব কোনওভাবেই ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলা যায় না, বরং পরিকল্পিত অপরাধ। তাঁর কথায়, “ইউনুস সরকার হিন্দুদের বিরুদ্ধে যে অপরাধ ঘটছে, তা ঠেকানোর প্রচেষ্টাও করছে না।” এই মন্তব্য শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকেই নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও নতুন প্রশ্ন তুলেছে—সংখ্যালঘু সুরক্ষা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার আদৌ কতটা প্রস্তুত?





