Congress : কংগ্রেসে চরম অস্বস্তি! রাহুলের যাত্রা ‘শূন্য’ আসন—বিহার হার কি ভেতরের ভুল, নাকি ভোট চুরি? দিল্লিতে জরুরি বৈঠকে তীব্র চঞ্চল্য!

বিহার নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের আলোচনা। মহাগঠবন্ধনের ভরাডুবি শুধু সংখ্যার হিসাবে নয়, মানসিকতার দিক থেকেও বড় ধাক্কা দিয়েছে কংগ্রেসকে। বিশেষত সেই সব আসনে, যেগুলোর উপর নিজেদের বাড়তি ভরসা ছিল দলটির। ভোটের পর থেকেই উঠছে একটাই প্রশ্ন—এই বিপর্যয়ের পিছনে আসল কারণ কী? ভোটারদের মন কীভাবে এতটা বদলে গেল? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই দিল্লির রাজনৈতিক অন্দরে শুরু হল নীরব তৎপরতা।

বিহারে এনডিএ-র জয় প্রত্যাশিত হলেও, কংগ্রেস-আরজেডি জোটের ফলাফল অনেককেই বিস্মিত করেছে। কারণ রাহুল গান্ধীর ভোটার অধিকার যাত্রা যেসব এলাকায় ছুঁয়ে গিয়েছিল, সেখানে একটিও আসন কংগ্রেসের ঝুলিতে না পড়ায় বাড়ছে প্রশ্ন। এই ব্যর্থতা কি শুধুই রাজনৈতিক ভুল কৌশল? নাকি প্রচারের অভাব? নাকি মানুষের বিশ্বাস হারানো? এই সমস্ত জিজ্ঞাসার মাঝেই কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ডাকলেন একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধী, কেসি বেণুগোপাল এবং অজয় মাকেনসহ শীর্ষ নেতৃত্ব।

সূত্রের খবর, বৈঠকে খাড়গে স্পষ্ট জানিয়েছেন—বিহারের ফলাফলকে হালকা ভাবে নেওয়া যাবে না। রাহুলও স্বীকার করেছেন, এই হার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচন শুরুর দিন থেকেই ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ ছিল। তাঁর বক্তব্য, মানুষের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও সাংবিধানিক সংস্থাগুলিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। এই অভিযোগের সুর মিলিয়েই কংগ্রেস বলেছে, “ভোট চুরি”ই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ। যদিও দলটি মানুষের রায়কে সম্মান করার কথাও পরিষ্কারভাবে বলেছে।

খাড়গে বলেন, “মানুষের রায় মাথা পেতে নিচ্ছি। তবে যারা গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।” তিনি আরও যোগ করেন, বিহারের প্রতিটি ফলাফল বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হবে। কোন আসনে কেন হার, কোন এলাকায় কোন প্রচার কার্যকর হয়নি—সব কিছু নিয়েই খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে মহাগঠবন্ধনকে সমর্থন করা ভোটারদের প্রতি দলের কৃতজ্ঞতাও ব্যক্ত করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ TMC inner conflict : দলীয় নির্দেশ মানল না ৭ কাউন্সিলর! দাঁইহাটে তৃণমূলের প্রকাশ্য গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে উত্তাল পৌরপ্রধান নির্বাচন!

বিহারে কংগ্রেসের এই পারফরম্যান্সকে অনেকেই দেখছেন দলের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক দুর্বলতার প্রতিফলন হিসেবে। আইএনডিআইএ জোটের মধ্যেও কংগ্রেসকে ‘দুর্বল লিংক’ বলে যে অভিযোগ ওঠে, বিহারের ফল সেই ধারণাকেই আরও জোরালো করেছে। রাহুলের বার্তা—পরাজয়ের কারণ খুঁজে বের করতে হবে, গণতন্ত্র বাঁচাতে আরও শক্তভাবে লড়তে হবে। তবে সত্যিটা অস্বীকারের উপায় নেই—বিহারের এই ফল কংগ্রেসের কাছে শুধু একটি পরাজয় নয়, বড়সড় একটি সতর্কবার্তা।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles