Sheikh Hasina : “ইউনূস আমাকে ফাঁসি দেবে? আমি অরে ফাঁসি দিব!”— রুদ্ধশ্বাস ফোনকলেই বিস্ফোরক হাসিনা! কলকাতার আওয়ামী শিবিরে তাতেই কি শুরু হল গোপন রাজনৈতিক ঝড়?

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন শেখ হাসিনা। ফাঁসির আদেশ ঘোষণার পর থেকেই দেশজুড়ে উত্তেজনা বাড়লেও কলকাতায় আশ্রিত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন অনেক সতর্কতার সঙ্গে। তাঁদের মতে, দেশে যা কিছু হচ্ছে, তার পরিণাম যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে, তা এখনই আন্দাজ করা কঠিন। তবে নেতাদের মুখেই শোনা যাচ্ছে, তাঁরা এখনও আশা ছাড়েননি।

ফাঁসির আদেশ ঘোষণার পর সোমবার দুপুরে কলকাতার আওয়ামী লীগ নেতারা ছিলেন গভীর উদ্বেগে। অনেকেই বলছিলেন, তাঁরা আগে থেকেই এমন রায়ের আশঙ্কা করেছিলেন। কিন্তু রায় ঘোষণার পর থেকে নেতাদের মধ্যে যে মানসিক চাপ তৈরি হয়, তা কমাতে পারেননি কেউই। নিজেদের মধ্যে ফোনে আক্ষেপ, হতাশা, ভয়—সবই চলছিল। কিন্তু ঠিক তখনই বদলে যায় পরিস্থিতি। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে হাসিনা স্বয়ং ফোন করেন তাঁদেরই এক শীর্ষ নেতাকে।

ফোন ধরতেই নাকি হাসিনা অপ্রত্যাশিত ভর্ৎসনা করেন—গলায় ফাঁসির দড়ি উঠে গেছে, তবু তোমরা কেউ ফোন করলে না! ওই নেতা জানান, তিনি ফোন করতে চেয়েও সাহস পাননি। সেই উত্তরে হাসিনার কথাই এখন ভাইরাল—“ইউনূস আমাকে কী ফাঁসি দিবে? আমি অরে ফাঁসি দিব!” হাসিনার দাবি, আল্লাহ তাঁকে এমনি এমনি বাঁচিয়ে রাখেননি। অতীতে গ্রেনেড হামলা থেকেও রক্ষা পাওয়ার কথা মনে করিয়ে দেন তিনি। নেতাদের কথায়, তাঁর কণ্ঠস্বরে যে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস ছিল, তা তাঁদের হতাশ মনকে নতুন করে শক্তি জোগায়।

কলকাতার আওয়ামী লীগ শিবিরের দাবি, হাসিনার এই কথাই এখন তাঁদের মানসিক বর্ম। নেতাদের বক্তব্য—বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি বা ১৪-দলকে অংশ নিতে না দিলে তৈরি হতে পারে এক অলিখিত জোট। তাঁদের মতে, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে যদি নির্বাচন হয়, তবে নতুন সরকার আন্তর্জাতিক বৈধতাও পেয়ে যেতে পারে। সেই অবস্থায় আওয়ামী লীগের ফিরে আসার পথ হবে আরও কঠিন। যদিও বাংলাদেশের সাম্প্রতিকতম আন্দোলন ও হিংসাত্মক মুহূর্তগুলোকে তাঁরা ‘গণরোষ’ বলেই ব্যাখ্যা করছেন এবং মনে করছেন, সেই রোষ এখন বাড়ছে।

আরও পড়ুনঃ Cyber Outage : ১১ হাজারের বেশি অভিযোগ! ভারতসহ বহু দেশে এক্স অ্যাকাউন্ট অচল, ক্লাউডফ্লেয়ার বিভ্রাটে থমকে গেল ওয়েব পরিষেবা!

জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর থেকেই কলকাতায় আশ্রয় নেওয়া নেতাদের একাংশ স্বীকার করেন—কিছু ভুল তাঁদের হয়েছিল। মাটির সঙ্গে যোগাযোগ কমে গিয়েছিল, পরিস্থিতির আভাস পাননি সময়মতো। তবে এখন তাঁরা অতীত নয়, ভবিষ্যতের দিকেই তাকাতে চাইছেন। হাসিনার ফোনে দেওয়া বার্তা তাঁদের বিশ্বাস বাড়িয়েছে যে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। তাঁদের কথায়—“উনি যা বললেন, তা বিশাল কথা। আমরা ভেঙে পড়েছিলাম, কিন্তু তিনিই আবার আমাদের দাঁড় করালেন।”

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles