একেই বলে আসল ন্যায়বিচার! পরপর ধর্ষক খুন, আবার সক্রিয় ‘হারকিউলিস’!

সমাজের বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের ধরনও বদলাচ্ছে। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ আগেও ছিল, এখনও রয়েছে, কিন্তু বিচারহীনতার সংস্কৃতি অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলেছে। আইন-আদালত থাকলেও অনেক সময় ন্যায়বিচার পাওয়া সহজ হয় না। কখনও দীর্ঘসূত্রিতা, কখনও প্রভাবশালী মহলের চাপে অনেক অপরাধই ধামাচাপা পড়ে যায়। ফলে ক্ষোভ বাড়তে থাকে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

বাংলাদেশেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা সামনে আসছে। কখনও বাবা-মাকে অচেতন করে স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে ধর্ষণ, কখনও শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়া শিশুর ওপর নারকীয় অত্যাচার, আবার কখনও প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ—এসব ঘটনার কোনো শেষ নেই। সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে প্রতিবাদ উঠলেও অপরাধীরা অনেক সময় পার পেয়ে যায়। আর এখান থেকেই জন্ম নেয় এক অন্যরকম চিন্তাভাবনা—যদি কেউ এসে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দিয়ে দেয়?

সম্প্রতি বাংলাদেশের সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে একটি নাম—‘হারকিউলিস’। ২০১৯ সালের একটি রহস্যময় ঘটনা আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। নেটিজেনরা চাইছেন, সেই অজ্ঞাত গুপ্তঘাতক যেন ফিরে আসে, যেন ধর্ষকদের একের পর এক উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করে। কিন্তু কেন হঠাৎ এই নামটি ঘুরে ফিরে আসছে?

আরও পড়ুনঃ তাপমাত্রা বাড়ছে! গরম কি দরজায় কড়া নাড়ছে? কী বলছে আবহাওয়া দফতর?

২০১৯ সালে বাংলাদেশে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি, যার ছদ্মনাম ছিল ‘হারকিউলিস’, একের পর এক ধর্ষককে হত্যা করছিল। হত্যার পর ধর্ষকদের দেহের পাশে পাওয়া যেত একটি চিরকুট, যেখানে লেখা থাকত—”ধর্ষক, ধর্ষণের পরিণতি এটাই। ধর্ষকরা সাবধান! ইতি হারকিউলিস।” সেই সময় তিনজন ধর্ষক এই ভাবে খুন হয়েছিল। কে ছিল এই হারকিউলিস? পুলিশের অনুসন্ধানেও তার পরিচয় জানা যায়নি।

বর্তমানে বাংলাদেশে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে, ইউনূসের নেতৃত্বে বদলের হাওয়া বইছে। কিন্তু ধর্ষণের ঘটনাগুলো বন্ধ হয়নি। আর তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় আবারও হারকিউলিসের প্রত্যাবর্তনের দাবি উঠেছে। তবে আইন হাতে তুলে নেওয়া কি আদৌ সমাধান? নাকি বিচারব্যবস্থার আরও কঠোর হওয়ার সময় এসেছে? এই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর