Bangladesh : বাংলাদেশে পুকুরে ঝাঁপিয়েও রক্ষা হল না! উন্মত্ত জনতার আগুনে ঝলসে মৃ*ত্যু হিন্দু ব্যক্তির, প্রশ্নের মুখে ইউনুস সরকার!

একটা সাধারণ দিন, বাড়ি ফেরার পথ—কিন্তু সেই পথই হয়ে উঠল মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার রাস্তা। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সমাজের মধ্যে যে আতঙ্ক ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে, ফের তারই এক মর্মান্তিক ছবি সামনে এল। একের পর এক ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে—এই দেশেই কি আর নিরাপদ নয় সংখ্যালঘুদের স্বাভাবিক জীবন? বারবার একই ধরনের হিংসার পুনরাবৃত্তি নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মহলকেও।

২০২৫ সালের শেষ দিনে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পঞ্চাশ বছর বয়সি খোকন দাস নামের এক হিন্দু ব্যক্তিকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা চালায় উন্মত্ত জনতা। জানা গিয়েছে, তিনি নিজের বাড়ি ফিরছিলেন, সেই সময় আচমকাই তাঁর উপর হামলা হয়। অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় তাঁকে, এরপর আগুন লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি কাছের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। সেই মুহূর্তে তিনি বেঁচে গেলেও, গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার মৃত্যু হয় খোকন দাসের। তাঁর স্ত্রী কান্নাজড়ানো গলায় জানান, কারা এই হামলার সঙ্গে যুক্ত তা তিনি জানেন না, তবে ন্যায়বিচার চান। তাঁর কথায়, খোকন দাস ছিলেন সহজ-সরল মানুষ, কারও সঙ্গে কোনও শত্রুতা ছিল না। এই ঘটনাটি বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর সাম্প্রতিক কালে ঘটে যাওয়া চতুর্থ হামলা বলে জানা যাচ্ছে। প্রতিটি ঘটনাই আগেরটির থেকে আরও নৃশংস, যা সংখ্যালঘু সমাজের মনে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

এর আগেও একাধিক ঘটনায় রক্তাক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। গত ২৪ ডিসেম্বর কালিমোহর ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা এলাকায় ২৯ বছরের অমৃত মণ্ডলকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ ওঠে। তার কিছুদিন আগেই, ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ২৫ বছরের দীপুচন্দ্র দাসকে মারধর করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং পরে তাঁর শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাগুলি কোনও বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয় বলেই মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

আরও পড়ুনঃ Newspaper : পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে সংবাদপত্র! রাজস্থানের স্কুলে নতুন নির্দেশিকা, পড়ুয়াদের জন্য কেন এত জোর খবর পড়ায়?

মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েই এই ঘটনাগুলি ঘটেছে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশ-বিদেশের একাধিক মানবাধিকার সংগঠন। দীপুচন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ডের পর ভারতের তরফেও বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল। যদিও ইউনুস প্রশাসনের দাবি, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নিরাপদ এবং এই ঘটনাগুলি বিচ্ছিন্ন। তবে পরপর হত্যাকাণ্ড সেই দাবিকে কার্যত প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এখন দেখার, এই রক্তাক্ত অধ্যায়ের পর আদৌ কোনও জবাবদিহি হয় কি না।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর