একটা সাধারণ কর্মদিবসের মতোই দিনটা শুরু হয়েছিল। কাজ সেরে বাড়ি ফেরার তাড়া, ভবিষ্যৎ নিয়ে ছোট ছোট স্বপ্ন—সবই ছিল। কিন্তু রাত নামতেই বদলে গেল সবকিছু। চট্টগ্রামের এক এলাকায় আচমকা উত্তেজনা, চিৎকার আর ছুটোছুটি। পরের সকালেই ছড়িয়ে পড়ে মর্মান্তিক খবর—আরও এক তরুণের মৃত্যু। স্থানীয়দের দাবি, এই মৃত্যু নিছক ঘটনা নয়, এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের আতঙ্ক।
ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রাম-এর সাগরিকা বিটাক এলাকায়। নিহত যুবকের নাম আকাশ দাস (২৫)। পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে কয়েকজন যুবকের সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, সেই বচসার জেরেই ছুরিকাঘাত করা হয় আকাশকে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। তাঁর মৃত্যুর পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়।
এই ঘটনায় তদন্তে নেমেছে বাংলাদেশ পুলিশ। অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনার রুহুল আমিন লাবু জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলের কাছের একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়েছে। সেখানে কয়েকজন যুবকের সঙ্গে আকাশের তর্কের দৃশ্য ধরা পড়েছে। এরপরই হামলার ছবি স্পষ্ট। যদিও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি, তবে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে বলে পুলিশের দাবি।
অন্যদিকে, পরিবারের অভিযোগ একেবারেই ভিন্ন সুরে। আকাশের দাদার দাবি, ইমন, নাজমুল, রাতুল, মহসিন, মান্নান, হৃদয় ও অন্তর নামে কয়েকজন স্থানীয় যুবক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি চালাত। আকাশ সেই চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় তাঁকে নিশানা করা হয়। শোকে ভেঙে পড়া মা সংবাদমাধ্যমের সামনে কাঁদতে কাঁদতে বলেছেন, “আমার কিছুই চাই না, শুধু যারা আমার ছেলেকে মেরেছে, তাদের ফাঁসি চাই।”
আরও পড়ুনঃ West Bengal : ভোটের আগে বড় ধাক্কা! এসআইআর তালিকায় ৬৫ লক্ষ নাম বাদ, বাকি ৬০ লক্ষ নিয়ে বাড়ছে জল্পনা!
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই একই দিনে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ এলাকায় আরও এক হত্যার ঘটনা সামনে আসে। ৭০ বছরের চন্দন দে গরু চুরির বাধা দিতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের গুলিতে প্রাণ হারান। দুটি আলাদা ঘটনা, কিন্তু আতঙ্ক একটাই—নিরাপত্তা কোথায়? প্রশাসন বলছে, তদন্ত চলছে। তবে পরিবারের একটাই প্রশ্ন, ন্যায়বিচার কবে?





