রাজ্যে দিনদিন বেড়েই চলেছে নানান দুষ্কৃতীমূলক কাজকর্ম। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা যে ভেঙে পড়েছে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ জানিয়ে আসছেন বিরোধীরা। এবার মনে হয় তৃণমূলের অন্দরেও এমনই দাবী উঠতে শুরু হল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুলিশমন্ত্রী করার দাবী জোরালো হল তৃণমূলের মধ্যে।
এর আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী বলে দাবী করেছেন তৃণমূলের একাধিক নেতা। আর এবার অভিষেককে ফুলটাইমের পুলিশমন্ত্রী করার দাবী তুললেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর কথায়, ২০২৬ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হবেন। তাঁর সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেপুটি করা হোক।
তৃণমূল বিধায়কের কথায়, “ফুলটাইমের একজন পুলিশমন্ত্রী থাকলে, আমার মনে হয়, তাঁর নজর এড়িয়ে কোনও অপরাধ সংগঠিত হবে না। অনেক সময়ে সিএম এত ব্যস্ত থাকেন, আমরা ইচ্ছা করলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি না, নিজেদের আবেদন নিবেদন সময় মতো পৌঁছতে পারি না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অনেকটা দায়িত্ব নিয়ে নিলে, বাংলার মানুষ অনেকটা উপকৃত হবেন”।
এর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তাহলে কী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ? এতদিন তো বিরোধীরা এই নিয়ে অভিযোগ করে এসেছেই, এবার কী তাহলে তৃণমূলের অন্দরেও এমনই চর্চা শুরু হচ্ছে? এর আগে রাজ্যে ফুলটাইমার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রয়োজন রয়েছে বলে বিরোধীরা দাবী তুলেছিলেন। আর এবার মমতার দলের লোকই চাইছেন যাতে ফুলটাইমার পুলিশমন্ত্রীও থাকুক রাজ্যে। আর সেই দায়িত্বভার নিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধীদের দাবীকেই তাহলে কী সমর্থন জানাচ্ছেন হুমায়ুন?
এই নিয়ে নিজের বক্তব্যের সমর্থনে এক সংবাদমাধ্যমে হুমায়ুন কবীর বলেন, “যোগ্য উত্তরসূরী যখন রয়েছে, তাঁদের মধ্যে যে কম্বিনেশন রয়েছে, তাতে অভিষেক যদি ডেপুটি সিএম হয়, স্বরাষ্ট্রদফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে বাংলার মানুষের মঙ্গল হবে। দলেরও ভালো হবে”।
এই বিষয়ে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, “মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যমন্ত্রী-পুলিশমন্ত্রী পার্ট টাইমার। রাজ্য়ের অবস্থা তো দেখাই যাচ্ছে। কিন্তু হুমায়ুন কবির কেন বলছেন, কেউ তাঁকে দিয়ে বলাচ্ছে কিনা, এ সব প্রশ্নে আমাদের গিয়ে লাভ নেই”।
আবার এই ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, “উদাহরণের কথা বলার কোনও যৌক্তিকতা নেই। কারোর কোনও বক্তব্য থাকলে, পার্টির ঊর্ধ্বতনকে জানাতে পারে। কারোর কিছু মনে হল, আর প্রকাশ্যে বলা, তা অবাঞ্ছিত”।






