আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনার ৩ মাসের বেশি সময় কেটে গিয়েছে। কিন্তু এখনও বিচারহীন এই মামলা। এই মামলায় অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলছে শিয়ালদহ আদালতে। এরই মধ্যে এবার জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের বিরুদ্ধে এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলল পাল্টা সংগঠন জুনিয়র ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন।
ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট যখন আর জি করের ঘটনায় প্রতিবাদ দেখাচ্ছে, থ্রেট কালচার নিয়ে সরব হয়েছে, সেই সময় তাদের পাল্টা এক সংগঠন তৈরি করে জুনিয়র ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন। তাদের আবার দাবী, জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের অনিকেত মাহাতো, দেবাশিস হালদার, কিঞ্জল নন্দরা আন্দোলনের নামে টাকা তুলছে। এমনকি, তাদের বিরুদ্ধেও থ্রেট কালচারের অভিযোগ করে তারা।
এবার এই জুনিয়র ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের তরফে সিবিআইয়ের উপর চাপ বাড়িয়ে সিজিও কমপ্লেক্সে গিয়ে ডেপুটেশন জমা দেওয়া হল। দ্রুত তদন্তের দাবী তুলেছে তারা। জুনিয়র ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম প্রধান মুখ শ্রীশ চক্রবর্তী বলেন, “সিবিআই দ্রুত সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দিক। যে তথ্য সামনে আনার আছে তা সামনে আনুক। শিয়ালদহ কোর্টে যে ট্রায়াল চলছে তাতে সিবিআই তাঁদের সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আইনজীবী নিয়ে আসুক এবং আমাদের বিচার দিক”।
শুধু তাই-ই নয়, এই সংগঠনের তরফে এও দাবী করা হয়েছে যে জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের কেউ কেউ নাকি অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়এর অরতি সমবেদনা দেখাচ্ছে। এই সংগঠনের অন্যতম মুখ অত্নু বিশ্বাসের দাবী, “জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের কিছু নেতা ধর্ষণ-খুনের মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ের প্রতি সমবেদনা দেখাচ্ছে। তাঁদের এই ধরনের আচরণকে তীব্র ধিক্কার জানাই। তাঁরাই একসময়ে প্রশ্ন তুলেছিল মানুষ নির্যাতিতার পক্ষে না ধর্ষকের পক্ষে। সেই তাঁরাই এখন ধর্ষকের পক্ষ নিয়ে সমবেদনা দেখাচ্ছে”।
প্রসঙ্গত, শিয়ালদহ আদালতে যখন আর জি কর মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়, সেই সময় অভিযুক্ত সঞ্জয় রায় প্রিজন ভ্যান থেকে চিৎকার করে দাবী করে যে তাকে নাকি ফাঁসানো হচ্ছে। সে ধর্ষণ-খুন করে নি। ডিপার্টমেন্ট থেকে বারণ করায় সে চুপ ছিল বলে দাবী তার। এমনকি, সঞ্জয় এও দাবী করে, প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল তাঁকে ফাঁসাচ্ছেন।
সঞ্জয়ের এমন দাবীর পর জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের তরফে বলা হয়েছিল, সঞ্জয়ের বয়ান যাচাই করা উচিত। এই বিষয়ে আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসক কিঞ্জল নন্দ বলেছিলেন, “তাকে কে ফাঁসিয়েছে, কেন ফাঁসানো হচ্ছে, এই পুরো ঘটনার মোটিভ কী, সেটা দ্রুত সিবিআই-এর সামনে আনা উচিত। দ্রুত তদন্ত করে সিবিআই এইসব বিষয়গুলি সামনে নিয়ে আসুক”। সেই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই এবার বিস্ফোরক দাবী আনল জুনিয়র ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার