বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘিরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই উদ্বেগ বাড়ছিল। নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে অস্থিরতার আবহ, রাস্তা-ঘাটে বাড়তি উত্তেজনা, রাজনৈতিক সংঘর্ষের খবর—সব মিলিয়ে প্রতিবেশী দেশের পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছিল নয়াদিল্লি। ঠিক এই আবহেই হঠাৎ করে একটি সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোড়ন ফেলেছে কূটনৈতিক মহলে। এমন এক নির্দেশ এসেছে, যা স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন তুলছে—তবে কি বাংলাদেশে সত্যিই বড় কিছু ঘটতে চলেছে?
বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশন এবং অন্যান্য ভারতীয় সরকারি দপ্তরে কর্মরত আধিকারিকদের পরিবারের সদস্যদের যত দ্রুত সম্ভব ভারতে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, এটি সম্পূর্ণ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক জরুরি পরিস্থিতির ঘোষণা না হলেও, নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা যাচ্ছে।
তবে এখানেই সব শেষ নয়, বিদেশমন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, পরিবারের সদস্যদের ফেরানোর পরামর্শ দেওয়া হলেও বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশন কিংবা অন্যান্য কূটনৈতিক কেন্দ্র বন্ধ করা হচ্ছে না। সমস্ত অফিস আগের মতোই খোলা থাকবে এবং কাজকর্মেও কোনও ব্যাঘাত ঘটবে না। অর্থাৎ, এটি কোনও কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি নয়, বরং সম্ভাব্য অশান্তির আগেই নেওয়া এক প্রাথমিক সাবধানতা। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হঠাৎ কেন?
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এর মূল কারণ আসন্ন জাতীয় নির্বাচন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ভোট। ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে চাপানউতোর চরমে। তার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মৌলবাদী শক্তির দাপট এবং হিংসাত্মক ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে বলেও খবর মিলছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করছে কেন্দ্র।
আরও পড়ুনঃ Beldanga : কেন্দ্র-রাজ্য দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত বেলডাঙা, হাইকোর্টের নির্দেশে নিরাপত্তা বাড়ানোর চেষ্টা!
সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা সেই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে। নির্বাচনের আগে ইনকিলাব মঞ্চের প্রধান ওসমান হাদির মৃত্যু ঘিরে উত্তপ্ত বাংলাদেশ। এরই মধ্যে ময়মনসিংয়ে হিন্দু যুবক দীপু দাসকে নৃশংসভাবে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। একের পর এক সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসায় পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। সব দিক বিবেচনা করেই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে আগাম পদক্ষেপ করল বিদেশমন্ত্রক—এমনটাই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।





“আগে হিন্দু, তারপর বাঙালি…যে রক্ষা আমাদের রক্ষা করবে, আমি তাদের দলে” “আমি হিন্দুস্থান চাই” বাংলায় পদ্মফুলের উত্থানেই খুশি অভিজিৎ ভট্টাচার্য! বিজেপির সাফল্যের পর খুললেন মুখ! গায়কের মন্তব্যে তোলপাড় নেটদুনিয়া!