জম্মু কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপের পরই পাক সরকার কি করবে আর কি করবেনা তা-ই ভেবে পাচ্ছেনা। শেষে ভারতের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক সংঘাত লড়তে গিয়ে পাক সরকার তাদের বৈঠকে কয়েকটি বালখিল্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ যার দ্বারা ভারতের তো কোনো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাই নেই, উল্টে বিপদ বাড়তে পারে পাকিস্তানের৷
কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপের পরই পাকিস্তানে তড়িঘড়ি জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির বৈঠক হয়। আর সেখানে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক অবনতি করার সিদ্ধান্ত নেয় পাক সরকার৷ সেই মতো পাক সরকারের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয় ভারত যেন তাদের রাষ্ট্রদূতকে তুলে নেয়। পাকিস্তানে ভারতের রাষ্ট্রদূত অজয় বিসারিয়াকে ইতিমধ্যেই দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে পাক সরকার৷ এছাড়াও পাক সরকারও তাদের নয়া রাষ্ট্রদূত মইন-উল-হককে আর ভারতে পাঠাচ্ছে না বলে জানিয়ে দেয়৷
এছাড়াও জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির বৈঠকে পাক সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, ভারতের সঙ্গে সমস্ত কূটনীতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার। দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলোতে সমঝোতা, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করা, জম্মু কাশ্মীরের বিষয়টিকে রাষ্ট্রসংঘের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নিকট নিয়ে যাওয়া, ১৪ আগস্ট পাকিস্তান কাশ্মীরিদের জন্য সহমর্মিতা দিবস পালন করবে এবং ১৫ আগস্ট পালিত হবে কালা দিবস।
হাস্যকর এই সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে বলে রাখা ভালো যে, পুলওয়ামা হামলার পর থেকে এমনিতেই মোদী সরকার কূটনীতিক সম্পর্ক কমিয়েছে পাকিস্তানের সঙ্গে। পাকিস্তান বারবার আলোচনা চাইলেও ভারত সেই আলোচনায় বসেনি৷ বাণিজ্যক সম্পর্ক বন্ধ নিয়ে বলা যায় যে, পুলওয়ামা কান্ডের পর পাকিস্তানের আর্থিক অবস্থা এতোটাই খারাপ হয়েগিয়েছিল যে চারদিকে স্রেফ টমাটোর দাম নিৈলয়েই হাহাকার পরে গিয়েছিল। সেক্ষেত্রে এবারও ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করে আর্থিক সমস্যাতে আরও জর্জরিত হতে পারে পাকিস্তান, ভারতের এতে বিশেষ ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। রাষ্ট্রাংঘের নিকট যাওয়ার ব্যাপারেও বালখিল্য সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের, কারণ ভারতের এটি অভ্যন্তরীণ বিষয় তা রাষ্ট্রসংঘও জানে, তারা জানে ভারতের মনোভানও। তাই রাষ্ট্রসংঘ এবিষয়ে নিজেদের দূরেই রাখবে। এছাড়া ১৪ আগস্ট এবং ১৫ আগস্ট পাকিস্তান কি দিবস পালন করলো আর না করলো তাতে ভারতের কিচ্ছু যায় আসে না!! কাজেই পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তগুলোকে বালখিল্য ছাড়া আর কিছু বলা যায় না।





