মা আর সন্তানের সম্পর্ক পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর বন্ধনগুলোর একটি। সেই বন্ধন যখন হঠাৎ করে ভেঙে যায়, তখন যে শূন্যতা তৈরি হয়, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। ঝালকাঠির এক নিরীহ মায়ের জীবনে এমনই এক মর্মান্তিক অধ্যায়ের সাক্ষী থাকল স্থানীয় মানুষজন। রাস্তায় দাঁড়িয়ে সন্তানের নিথর দেহ বুকে জড়িয়ে তাঁর কান্না যেন চারপাশের বাতাসকেও ভারী করে তুলেছিল।
ভুক্তভোগী লিয়া মনির অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে হৃদয় বেপারি নামে এক যুবকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে, আর সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই বারবার প্রতারণা করে অভিযুক্ত। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পরও পাশে দাঁড়ানোর বদলে এড়িয়ে যেতে থাকে সে। তবুও সবকিছু সহ্য করে সন্তানের জন্ম দেন লিয়া।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ বরিশালের হাসপাতালে এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন লিয়া। কিন্তু আনন্দের সেই মুহূর্ত খুব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। অভিযোগ, মাত্র তিন দিনের মাথায় নবজাতককে নিয়ে উধাও হয়ে যায় হৃদয়। এক মুহূর্তে সন্তানহারা হয়ে পড়েন মা। অসহায় অবস্থায় শুরু হয় তাঁর লড়াই আইন, সমাজ এবং নিজের ভাগ্যের বিরুদ্ধে।
পরবর্তীতে রাস্তার ধারে এক ভিক্ষুক শিশুটিকে উদ্ধার করেন। এরপর তাকে চাইল্ড হোমে রাখা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া এবং ডিএনএ পরীক্ষার পর অবশেষে গত ৯ মার্চ নিজের সন্তানকে ফিরে পান লিয়া। কিন্তু ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। অবহেলা ও অযত্নে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি সোমবার সকালে নিভে যায় ছোট্ট প্রাণটি।
আরও পড়ুনঃ I PAC : “মুখ্যমন্ত্রীই যদি তদন্তে বাধা দেন, তবে ইডি যাবে কোথায়?” সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নে চাপে রাজ্য, আই-প্যাক মামলায় শাসকদলের ভূমিকা ঘিরে তীব্র বিতর্ক!
সন্তানের মৃত্যুর পর ভেঙে পড়লেও থেমে থাকেননি লিয়া। সন্তানের মরদেহ কোলে নিয়ে তিনি পথে নামেন অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিতে। স্থানীয়দের নিয়ে মানববন্ধন করে তিনি জানিয়ে দেনএই লড়াই এখন শুধু তাঁর নয়, সমাজেরও। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে এবং তাকে ধরতে তল্লাশি চলছে। কিন্তু মায়ের একটাই প্রশ্ন এই ক্ষতির দায় কে নেবে?





