‘গলায় মালা পরাবেন না, আমি আপনাদেরই ছেলে…নাড়ির টানে ফিরে এসেছি’ নিজের ঘর, উন্নয়নই অঙ্গীকার! নির্বাচনের প্রাক্কালে, নতুন কেন্দ্র শ্যামপুরে পা রেখেই বার্তা হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের!

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে রাজ্যের রাজনীতিতে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে বিজেপির প্রার্থী তালিকার দ্বিতীয় দফা ঘোষণার পর। এই তালিকায় বেশ কিছু চমক থাকলেও বিশেষ করে নজর কেড়েছে অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের কেন্দ্র বদল। এতদিন খড়গপুর সদর থেকে লড়াই করা হিরণকে এবার প্রার্থী করা হয়েছে শ্যামপুরে। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে টলিউডের পরিচিত মুখ পাপিয়া অধিকারীকেও প্রার্থী তালিকায় জায়গা দেওয়া হয়েছে। ফলে এই তালিকা নিয়ে আলোচনা আরও বেড়েছে। দলীয় কৌশল কী, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।

নিজের কেন্দ্র পরিবর্তন নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে হিরণ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি জানান, দলের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ এবং এই সুযোগকে তিনি সম্মানের চোখে দেখছেন। তাঁর কথায়, শ্যামপুর শুধু একটি কেন্দ্র নয়, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি জায়গা। তিনি বলেন, শ্যামপুর তাঁর মামার বাড়ি এবং তাঁর মায়ের জন্মও সেখানেই। সেই কারণেই এই জায়গার সঙ্গে তাঁর গভীর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে এই এলাকায় থেকে মানুষের জন্য কাজ করতে পারবেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, এই কেন্দ্রে তিনি নিজেকে অনেকটাই নিজের ঘরের মানুষ হিসেবে দেখছেন।

সম্প্রতি শ্যামপুর সফরে গিয়ে স্থানীয় মানুষের উষ্ণ অভ্যর্থনায় মুগ্ধ হন হিরণ। এলাকাবাসী তাঁকে ফুলের মালা পরিয়ে স্বাগত জানান, যা তাঁকে আবেগাপ্লুত করে। তবে সেই মুহূর্তেই তিনি স্পষ্ট করে দেন, তিনি শুধুমাত্র সম্মান গ্রহণ করতে আসেননি। তিনি বলেন, তিনি এখানে এসেছেন একজন নিজের মানুষ হিসেবে, এলাকার ছেলে হয়ে। তাঁর কথায়, তিনি চান মানুষ তাঁকে আপনজন হিসেবেই গ্রহণ করুক। এই বার্তায় তিনি মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। তাঁর এই বক্তব্যে উপস্থিতদের মধ্যেও সাড়া পড়ে।

শ্যামপুরের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তিনি উদ্বেগও প্রকাশ করেন। ছোটবেলায় যখন তিনি এখানে আসতেন, তখন যেমন পরিস্থিতি দেখেছেন, এখনও অনেক ক্ষেত্রে তেমনই রয়েছে বলে জানান তিনি। বিশেষ করে স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, আজও এই এলাকায় কোনও বড় হাসপাতাল বা কলেজ নেই। অসুস্থ হলে মানুষকে উলুবেড়িয়ায় নিয়ে যেতে হয়, যা খুবই কষ্টকর। এই পরিস্থিতি বদলানো জরুরি বলে তিনি মনে করেন। তিনি আশা করেন, এলাকার মানুষ উন্নয়নের পক্ষে মত দেবেন।

আরও পড়ুনঃ Child Negli*gence Tragedy :প্রেম থেকে প্রতা*রণা, সন্তান চু”রি থেকে মৃ*ত্যু, ১৩ মাসের শিশুর নিথর দেহ বুকে নিয়ে রাস্তায় মায়ের হাহাকার, অভিযুক্তের শাস্তি*র দাবিতে তীব্র প্রতিবা*দ!

শেষে হিরণ জানান, তিনি মানুষের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চান। এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলির সমাধান খুঁজতে তিনি সবাইকে সঙ্গে নিতে চান। তাঁর মতে, একসঙ্গে আলোচনা করেই উন্নয়নের পথ তৈরি করা সম্ভব। তিনি এলাকাবাসীর আশীর্বাদ কামনা করেন এবং বলেন, মানুষের সমর্থনই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। আগামী দিনে মানুষের পাশে থেকে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। তাঁর এই বার্তা শ্যামপুরের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার, ভোটের ময়দানে এর প্রভাব কতটা পড়ে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles