একদিকে ভারতের বুকে আজ বহু প্রতীক্ষিত রামমন্দিরের ভুমিপুজোয় মেতেছেন দেশবাসী। অন্যদিকে লেবাননের রাজধানী বেইরুট এখন মৃত্যুমিছিল গুনতে ব্যস্ত। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় অনুযায়ী বিকেলের দিকে বন্দর এলাকায় একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। সেই দুর্ঘটনায় এখনো অবধি মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭৮। আহত কমপক্ষে ৪,০০০ মানুষ।
সরকারি সূত্রে খবর, সার ও বোমা তৈরির জন্য গত ৬ বছর ধরে বন্দরের গুদামে কোনো সুরক্ষাবিধি ছাড়াই প্রায় ২,৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মজুত করা হয়েছিল। সেই জমানো বিস্ফোরক ফেটেই এই বিপত্তি। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন লেবাননের রাষ্ট্রপতি মিখেল আউন। এই ঘটনায় প্রশাসনের চরম গাফিলতি সামনে এসেছে।
লেবাননের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সচিব আব্বাস ইব্রাহিম জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় বিকেলের দিকে বন্দর এলাকায় এই মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটে। এর তীব্রতা এতটাই ছিল যে মনে হচ্ছিল ভূমিকম্প হচ্ছে। এমনকি লেবানন থেকে অন্তত ২৪০ কিমি দূরে ভূমধ্যসাগরে অবস্থিত সাইপ্রাসের নিকোসিয়া দ্বীপেও এই বিস্ফোরণের তীব্রতা অনুভূত হয়।
এরপর লেবাননের রাস্ট্রপতি মিখেল আউন দ্রুত নিরাপত্তা পরিষদের সাথে জরুরি বৈঠকে বসেন। আপাতত এত বড়ো দুর্ঘটনার পর আগামী দু’সপ্তাহ দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যারা এই ঘটনার জন্য দায়ী তাদের এর মূল্য চোকাতে হবে। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তার কারণে লেবাননের বেইরুট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধু হামাত সামরিক বিমানঘাঁটি থেকে ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যুদ্ধবিমান EMB-314 সুপার টেকনো উড়ছে।
বেইরুটে এই প্রাণঘাতী বিপর্যয়ের পর তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত ও আমেরিকা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইটবার্তায় লিখেছেন, “আমি এই ঘটনায় হতচকিত এবং শোকস্তব্ধ। মৃতদের পরিবারের প্রতি আমি সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করছি।”
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনিক কর্তাদের মারফত এই বিস্ফোরণের কথা জানতে পেরে এই ঘটনাকে “ভয়ানক হামলা” বলে সম্বোধন করেছেন। আপাতত এই ঘটনার ছবি দেখে সোশ্যাল মিডিয়াতেও মানুষ শিহরিত হচ্ছেন।





