রাম মন্দিরের শিলান্যাস হয়েছিল রাজীব গান্ধীর আমলে, জোর দাবি কংগ্রেসের

উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় বর্তমানে চলছে রাম মন্দিরের ভূমি পুজো। উপস্থিত রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী থেকে রাজ্যপাল। গোটা অনুষ্ঠানের প্রধান পৌরোহিত্য করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যদিও বহিরঙ্গে এটা একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান কিন্তু এর সঙ্গে যে দেশের রাজনীতিও জড়িয়ে আছে এই কথা সকলেই জানেন।

যদিও এই উৎসব এর সমস্ত কৃতিত্ব বিজেপির প্রাপ্য বলে দাবি দলের নেতাদের কিন্তু মন্দির নির্মাণের কৃতিত্বের দাবি নিয়ে ইতিমধ্যেই মাঠে নেমে পড়েছে কংগ্রেস। এতদিন ধর্মের সঙ্গে কোনরকম সরাসরি সংযোগ এড়িয়ে চলা জাতীয় দল হঠাৎ করেই সম্প্রতি রাম মন্দির নিয়ে অত্যন্ত উৎসাহিত হয়ে পড়েছে। হঠাৎ করে তারা অত্যন্ত রাম ভক্ত হয়ে পড়েছেন। তাই বিজেপিকে একা এই মন্দির নির্মাণের ‘ক্রেডিট’ দিতে নারাজ রাহুল-সোনিয়ার দল।

কংগ্রেস নেতা কমল নাথ যিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি দাবি করে বসেছেন যে কংগ্রেস তো শুরু থেকেই রাম মন্দিরের পক্ষে। রাজীব গান্ধীর আমলেই প্রথমবার মন্দিরের শিলান্যাস হয়। সাধারণ মানুষের জন্য মন্দিরের দরজাও খুলে দিতে চেয়েছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কমল নাথ বলেছেন, তিনি শুরু থেকেই বলছেন যে তিনি রাম মন্দির নির্মাণ কে সমর্থন করেন।‌ ভারতই একমাত্র দেশ যেখানে সবার সম্মতিতে এভাবে মন্দির নির্মাণ সম্ভব।

তিনি এও বলেছেন যে, ভারতবাসী যেন এই কথা বলে যে ১৯৮৬ সালেই রাম মন্দিরের দরজা কিন্তু রাজীব গান্ধীই খুলেছিলেন। ১৯৮৯ সালেই একরকম ভূমিপুজো হয়ে গিয়েছিল। রাজীব ভোটের প্রচারেও রামরাজ্যকেই স্লোগান করেছিলেন।

ইতিহাসও একই কথা বলছে। ১৯৮৬ সালে রাজীব গান্ধীর আমলেই প্রথম খোলা হয় বিতর্কিত ইমারতের দরজা। উত্তরপ্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বীর বাহাদুর সিংকে ওই নির্মাণের দরজা খোলার জন্য রাজীবই রাজি করান। তখন থেকেই রামলালার দর্শন করার অনুমতি পাওয়া শুরু করে হিন্দুরা।

১৯৮৫ সালে রাজীব গান্ধীর অনুরোধেই প্রথমবার দূরদর্শনে রামায়ণ সম্প্রচার শুরু হয়। ১৯৮৯ সালে নিজের নির্বাচনী প্রচারে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাম মন্দির নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেন।
সেই বছরেই বিশ্ব হিন্দু পরিষদ রাজীব গান্ধীর থেকে রাম মন্দির শিলান্যাস এর অনুমতি পায়। ১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বর ঐতিহাসিকভাবে রামজন্মভূমির অদূরেই মন্দিরের শিলান্যাস করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।

সে অনুষ্ঠানে রাজীব গান্ধী নিজে উপস্থিত ছিলেন না কিন্তু তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বুটা সিংকে তিনি নিজের প্রতিনিধি করে পাঠিয়ে ছিলেন।

তবে এরপর আইনের পাল্লায় পড়ে মন্দির নির্মাণ আর হয়নি। তবে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি কখনোই রাম মন্দির গঠনের ক্ষেত্রে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর অবদান অস্বীকার করে না। তবে এই ব্যাপারে বাহবা তারা শুধুমাত্র রাজীব গান্ধীকে দিতে নারাজ। সেখানে পুরো কংগ্রেস দল যখন কৃতিত্ব নেওয়ার লড়াইয়ে নেমে পড়েছে তখন তা নিজস্ব স্বার্থ সিদ্ধি ছাড়া আর কিছু নয় বলে মনে করছে বিজেপি। কংগ্রেসের রাম মন্দির নিয়ে হঠাৎ এই তৎপরতা বোধগম্য হচ্ছে না কারোরই। প্রশ্ন উঠছে তবে কি কংগ্রেসও নিজের ভোটব্যাঙ্ক বাড়াতেই এই পথে হাঁটছে?

RELATED Articles

Leave a Comment