চীনা ফন্দিতে আটক মালদ্বীপ! ঋণের জালে জড়িয়ে জমি মাফিয়া চীনের কাছে ভূমি খোয়ানোর আশঙ্কা!

চীন (China) কখন‌ই শোধরানোর পাত্র নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনিষ্ট করতে জিনপিংয়ের দেশের জুড়ি মেলা ভার। জমি মাফিয়া চীনের বরাবর‌ই নজর ছোট ছোট দেশগুলো। এই সমস্ত দেশ গুলিকে ঋণের জালে ফাঁসিয়ে ভূমি আত্মসাৎ করাই তাদের কাজ। ঋণের লোভ দেখিয়ে নিজের দলে টেনে ঋণের জালে জড়িয়ে দেওয়া চীনের বহু পুরনো খেলা। আর এর জেরে অনেক সময়‌ই ছোট ছোট দেশগুলো তাদের সীমানার অনেক গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হারিয়েছে।

আর এবার চীনের এমনতর লোলুপ দৃষ্টি গিয়ে পড়েছে ভারতের প্রতিবেশী দেশ মালদ্বীপের (Maldives) উপর। অক্টোপাসের মতো মালদ্বীপকে এমনভাবে নিজেদের ঋণের জালে ফাঁসিয়েছে চীন, যে আগামী দিনে দেউলিয়া হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। লাওস এবং অন্যান্য দেশের মতো বড় খেসারত দিতে হতে পারে।

মালদ্বীপের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং বর্তমানে সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ নাশিদ(Mohammed Nasheed) আসন্ন বিপদের আঁচ করতে পেরেছেন। তাঁর আশঙ্কা চীনের এই ঋণের জন্য একদিন গোটা মালদ্বীপ পুরোপুরি চীনের জালে আটকা পড়ে যাবে। তিনি জানিয়েছেন, মালদ্বীপের মোট অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ৫ আরব ডলারের উপর। কিন্তু এর মধ্যে চীনের ঋণ রয়েছে প্রায় ৩.১আরব ডলার।

একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, এর মধ্যে রয়েছে সরকারের নেওয়া ঋণ, সরকারী সংস্থাগুলির নেওয়া ঋণ এবং বেসরকারী সংস্থাগুলির নেওয়া ঋণ, যার নিশ্চয়তার দায়িত্বে রয়েছে মালদ্বীপ সরকার। সেইসঙ্গে উঠে এসেছে চীনা ঋণনীতি। প্রায় ৯৯ বছর পূর্বে চীনের ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ে শ্রীলঙ্কাকে হাম্বানটোটা বন্দর খোয়াতে হয়েছিল। বর্তমান দিনে মোহাম্মদ নাশিদের আশঙ্কা, মালদ্বীপকেও না কোন কিছু হারাতে হয়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে মালদ্বীপ সরকার আবদুল্লাহ ইয়ামিন চীন সমর্থক হওয়ায় বেজিং থেকে মোটা ঋণ নিয়েছিলেন। মালদ্বীপ সরকারের সেই ঋণের বোঝাই বর্তমান দিনে সংশয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে করোনা মহামারীর(Covid-19 pandemic) আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে বেশ মুখ পুড়েছে চীনের। একইসঙ্গে আবার প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক‌ও প্রায় তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এই পরিস্থিতিতে মালদ্বীপের সঙ্গে চীন কি করে সেটাই দেখার।

RELATED Articles

Leave a Comment