করোনা পরিস্থিতি তৈরির জন্য বিশ্বের সমস্ত তাবড় তাবড় দেশগুলি আঙ্গুল তুলেছিল চিনের দিকে। একদিকে থেকে দেখতে গেলে প্রায় একঘরে করে দেওয়া হয় চিনকে। এরপর লাদাখ-সীমান্ত নিয়ে ভারতের সঙ্গে সংঘাতে জড়ায় চিন। এই অবস্থায় ভারতকে দুর্বল করার জন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশকে ঢাল বানাতে চায় চিন। নিজের অর্থনৈতিক প্রসারের জন্য বাংলাদেশের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশও ভারতকে নিচু করার উদ্দেশে চিনের সঙ্গে হাত মেলায়। কিন্তু চিনের ফাঁদে পা দিয়ে সে যে আখেরে নিজেরই ক্ষতি করেছে এবার তা টের পেল বাংলাদেশ। বাংলাদেশে পরিকাঠামো উন্নয়নের নামে তাদেরকে রীতিমতো লুট করছে চিন, এমনটাই জানা গিয়েছে।
বাংলাদেশের পরিকাঠামো নির্মাণে বিভিন্ন প্রকল্পে লাগাতার ব্যয় বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে চিনা কোম্পানির বিরুদ্ধে। কোম্পানিগুলো নানা ছুতোয় সময় বৃদ্ধি করে ব্যয় বৃদ্ধি করছে। বাংলাদেশের স্বপ্নের পদ্মা সেতু ও রেল সংযোগ প্রকল্পএর কাজ করছে চিনের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। নদীশাসনের কাজ করছে চিনা কোম্পানি সিনোহাইড্রো কর্পোরেশন। ১০ হাজার ১৬২ কোটি টাকার প্রকল্প এটি। ২০১১ সালে প্রথম প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধনের পর ব্যয় ধরা হয় ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২২ সালে জুনের মধ্যে সেতু চালু হওয়ার কথা। কিন্তু ২০১৮সালে প্রকল্প সংশোধন না করে ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। কাজ না হওয়ায় এই ব্যয়ভার বহন করতে হবে বাংলাদেশ সরকারকেই।
অন্যদিকে, পদ্মা রেল প্রকল্প গ্রহণ করা হয় ২০১৬ সালের মে মাসে। এই সময় এর ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৩৪ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা যা ২০১৮ সালে এসে দাঁড়ায় ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকায়। এরপর সময়মতো কাজ না এগোলে এই ব্যয় আরও বাড়বে বলে জানা গেছে। করোনা পরিস্থিতি ও বন্যার স্রোতের কারণে এই কাজে আগের থেকেই অনেক দেরী হয়ে গেছে।
এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশের রেলপথ মন্ত্রী মহম্মদ নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, নকশা নিয়ে সেতু নির্মাণে যে ত্রুটি হয়েছে তা দ্রুত সমাধান করা হচ্ছে। এর কারনে সেতু বা রেল সংযোগ নির্মাণে বাড়তি সময় লাগবে না। এদিকে সময়মতো কাজ শেষ না করার দায় নিতে চাইছে না ঠিকাদারি চিনা সংস্থা। কাজ দেরির কারণে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির দায়ও পড়েছে বাংলাদেশ সরকারের উপরেই। এমনকি, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির বাড়তি সময়ে ব্যবহারের খরচও দিতে হচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। করোনা পরিস্থিতি ও বন্যার স্রোতের কারণ দেখিয়ে ঠিকাদারি সংস্থা ২০২২ সাল পর্যন্ত সময় চেয়েছে সেতু নির্মাণের কাজের জন্য। কিন্তু দিনের পর দিন কাজ বন্ধ থাকায় তাদের লোকবল বসিয়ে রাখার জন্যও বাড়তি খরচ দিতে বাধ্য করছে ঠিকাদারি চিনা প্রতিষ্ঠান।
ঠিক একইভাবে নদীশাসন কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারদেরও নদীভাঙন মেরামতের খরচ যোগাচ্ছে বাংলাদেশ সরকারই। সাবেক সচিব ও বড় প্রকল্প বিষয়ে বিশ্লেষক মুহাম্মদ ফাওজুল কবীর খান বলেন, প্রকল্পের কাজে দেরী হওয়া মানেই ব্যয় বৃদ্ধি। কাজ নেওয়ার পর সময় ব্যয় করা ও তারপর ক্ষতিপূরণের দাবী, এসবই ঠিকাদারি সংস্থার কৌশল।





