সারা পৃথিবী জুড়ে এখন আতঙ্কের একটাই নাম কোভিড-১৯। করোনার প্রভাবে ধ্বংস হতে বসেছে পৃথিবীর সব তাবড় তাবড় দেশগুলি। আর এই সংক্রমণের জন্য মার্কিন মুলুক সহ বিভিন্ন দেশ চীনকেই দোষারোপ করছে। চীনের উহান থেকে সেই মারণ ভাইরাসের উৎপত্তি যা পৃথিবীব্যাপী লাখ লাখ লোকের প্রাণ হরণ করছে বলে দাবি বিভিন্ন দেশের। অন্যদিকে ভারতের সাথে চীনের সীমান্তবর্তী এলাকাকে ঘিরেও উত্তেজনা তুঙ্গে। এরই মধ্যে সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য আগাম তৈরি থাকার নির্দেশ দিলেন চীনের জিনপিং সরকার। চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম সূত্র থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, দেশের জাতীয় সার্বভৌমত্বকে বজায় রাখতেই সেনা জওয়ানদের প্রস্তুতি শুরু করে দিতে বলেছেন জিনপিং।
করোনা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক খুব খারাপের দিকে এগিয়েছে। তাইওয়ান, হংকং নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে বিড়ম্বনায় পড়েছে চীন। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তীব্র আক্রমণ করে চীনের কূটনীতিবিদ ওয়াং ই দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদরা চীন সম্বন্ধে গুজব রটাচ্ছেন। যার চলতে ওয়াশিংটনের সাথে চীনের সম্পর্ক খারাপ হচ্ছে। এছাড়া তিনি বলেন যে করোনার জন্য সবাই চীনকেই দায়ী করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কটাক্ষ করে এই ভাইরাসের নাম দিয়েছিলেন চীনা ভাইরাস। তার চলতে যথেষ্ট রাগ পোষণ করে চীনা সরকার। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে আবার নতুন করে ঠান্ডা যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে, সিকিম ও লাদাখ সীমান্তে সম্প্রতি চীনের সাথে হাতাহাতি হয় ভারতের। যার জেরে ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। হাতাহাতির জেরে দুই দেশের মোট ১১জন সৈনিক জখম হন। এছাড়া ভারতের বিরুদ্ধে সীমান্ত লঙ্ঘন করে অবৈধ প্রবেশের অভিযোগ আনে চীন সরকার। ভারত ও চীন দু’দেশেরই সীমান্তের সংবেদনশীল অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা জওয়ান মোতায়েন করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জিনপিংয়ের সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য তৈরি থাকার নির্দেশ ভারতের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।
গত সপ্তাহে সেনাবাহিনীর খাতে বড় ঘোষণা করে চীন সরকার। এ বছর সেনাবাহিনীর বাজেট ৬.৬ শতাংশ বাড়ানো হবে বলেও জানায় চীন। গত বছর এই বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৫ শতাংশ। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র উ কিয়ান জানিয়েছেন, ‘চীনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং বৈদেশিক আক্রমণের ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেই সেনাবাহিনীর বাজেট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সঠিকই নেওয়া হয়েছে।’





