ফের ইসলামের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ ফ্রান্সের!  বিচ্ছিন্নতাবাদে মদতের অভিযোগে ৭৬টি মসজিদ বন্ধের পরিকল্পনা 

ইসলামের সন্ত্রাসবাদি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিল ইমানুয়েল মাঁকরের দেশ।  
বিচ্ছিন্নতাবাদ ও ধর্মীয় মৌলবাদে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ সেই দেশে ৭৬টি মসজিদ বন্ধের পরিকল্পনা নিয়েছে ফ্রান্স।
এখন‌ও পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ওই ৭৬টি মসজিদের উপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে ফ্রান্সের প্রশাসন। তদন্তে যদি মসজিদগুলির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয় তাহলে সেগুলি বন্ধ করে দেওয়া হবে ইমানুয়েলের প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিন টুইট করেন, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও ধর্মীয় মৌলবাদী কাজকর্মে মদত দেওয়ার অভিযোগে ফ্রান্স জুড়ে থাকা ৭৬টি মসজিদের উপর নজর রাখা হচ্ছে। যদি  প্রমাণ হয় যে ওই মসজিদগুলির মধ্যে একটিতেও সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর তৈরি হয়েছে তাহলে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ যোগ্য সম্প্রতি, ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে কড়া মনোভাব দেখিয়েছে ফ্রান্স সরকার।
স্কুলের পড়ুয়াদের হজরত মহম্মদের বিতর্কিত কার্টুন দেখানোর জন্য ফ্রান্স-এর এক শিক্ষককে প্রকাশ্য রাস্তায় গলা কেটে হত্যা করে এক জেহাদি। এরপর ফ্রান্সের এক গির্জার সামনে আরও এক জেহাদির হাতে প্রাণ যায় এক মহিলার। এরপরই এই ঘটনার নিন্দা করতে গিয়ে ইসলাম ধর্মের সন্ত্রাসবাদি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাঁকর।
আর যার জেরে মুসলিম বিশ্বের দেশ গুলি  ফ্রান্সে উৎপাদিত হওয়া পণ্য বয়কটের ডাক ওঠে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করার পাশাপাশি ফ্রান্সের নাগরিকদের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন অনেকে।
এরপর অবস্থা সামাল দিতে ফ্রান্সের বিদেশমন্ত্রী মিশরে গিয়ে ইসলাম ধর্মকে সম্মান করেন বলেও অবস্থার বিশেষ কোনও পরিবর্তন হয়নি। উল্টে বিশ্বজুড়ে ফ্রান্সের প্রতি ক্ষোভ বাড়তে থাকে। যদিও তাতে ইমানুয়েল মাঁকর সরকার যে নিজের দেশের সুরক্ষার আগে অন্য কোনও কিছুকেই গুরুত্ব দিচ্ছে না তা মসজিদগুলি বন্ধ করার সিদ্ধান্তে ফের তা প্রমাণ হল।
মসজিদ বন্ধ করার পিছনে ফ্রান্স সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশে বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব যাতে ছড়িয়ে না পড়ে। সন্দেহজনক মসজিদগুলি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত সেই পরিকল্পনারই অঙ্গ। এই কারণে ইতিমধ্যেই ৬৬ জন বিদেশি নাগরিককে দেশ থেকে বহিষ্কৃত করেছে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকার।

RELATED Articles