হ্রাস পেয়েছে সংক্রমন, করোনার বিরুদ্ধে ‘প্রথম জয়’ ফ্রান্সের, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ঘোষণা প্রেসিডেন্টের

করোনার জেরে যে সকল দেশ মারাত্মকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম ফ্রান্স। তবে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রনাধীন। দিনে দিনে লাগাম লেগেছে সংক্রমণেও। তার ফলস্বরূপ রাজধানী প্যারিস সহ গোটা ফ্রান্স সোমবার থেকে গ্রিন জোনের আওতায়। এমনকি তুলে নেওয়া হচ্ছে করোনার কারণে জারি করা বিধিনিষেধও,ঘোষণা করলেন দেশের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো।

সোমবার থেকে ফ্রান্সে খুলছে ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ। পাশাপাশি ইউরোপের অন্যান্য দেশে ভ্রমণের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে দেশবাসীরা তাদের পরিবারের সাথে দেখা করতে অন্যত্র যাওয়ার অনুমতিও পেয়েছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট রবিবার টেলিভিশনে সর্বসমক্ষে এসে করোনার বিরুদ্ধে ‘প্রথম বিজয়’ ঘোষণা করেন। ইমানুয়েল ম্যাক্রো বলেন, ‘করোনার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই এখনো শেষ হয়নি তবে ভাইরাসটির বিরুদ্ধে এটা প্রথম জয়।আর এতে আমি দারুণ খুশি। এই অদৃশ্য ভাইরাস আমাদের যা শেখালো তার সবকিছু থেকে আমি শিক্ষা নিতে চাই।’

এছাড়াও অতিমারী মোকাবেলায় ফ্রান্স এবং ইউরোপ যাতে অন্যান্য দেশের উপর কম নির্ভরশীল হয় সেই কাজও করবেন বলে ঘোষণা করেন ম্যাক্রো।তিনি বলেন, ‘আমি চাই আমরা করোনার কারণে যে শিক্ষা পেয়েছি সেটা তা যেন কাজে লাগাতে পারি’।

তবে ভাইরাস যে সম্পূর্ণ নির্মূল হয়নি এবং পুনরায় তার আক্রমণ হতে পারে সে বিষয়েও সতর্ক করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি এই মুহূর্তে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা না হলে, আগামী ২২ জুন থেকে স্কুল খুলতে পারে। তবে হাইস্কুল খোলার সম্ভাবনা নেই।

প্রসঙ্গত, ইউরোপের যেসমস্ত দেশে করোনার তান্ডব চলেছে তার মধ্যে ফ্রান্স অন্যতম। সেই দেশে এখন পর্যন্ত করোনার মৃতের সংখ্যা ২৯ হাজারেরও বেশি। এছাড়া মোট সংক্রামিতের সংখ্যা ১ লাখ ৫৭ হাজারের অধিক। তবে এর মধ্যেই করোনাভাইরাসের ধাক্কায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া ফ্রান্স আবার ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার লড়াই শুরু করেছে। ইতিমধ্যে করোনা মুক্ত হয়ে উঠেছেন ৭২ হাজারের বেশি মানুষ। দীর্ঘসময় ধরে লকডাউন চলার পর স্বাভাবিক জীবনের ফিরতে শুরু করেছে দেশবাসী। তবে সংক্রমণ এবং মৃত্যু পুরোপুরি স্তব্ধ হয়নি। এরমধ্যে ফ্রান্সে করোনা রোধ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ অনেকটা শিথিল হয়েছে, যার ফলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিকের পথে প্যারিস সহ গোটা ফ্রান্স।

RELATED Articles

Leave a Comment