আজ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ভাষা আন্দোলনে শহিদদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে ও বাংলা ভাষাভাষী সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ট্যুইট করলেন এপার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে অন্যান্য ভাষার প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে ট্যুইটারে তিনি লেখেন, ‘আজ অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি। বাংলাজুড়ে পালিত হচ্ছে ভাষা শহিদ দিবস। এই ঐতিহাসিক দিনে বাংলা ভাষার জন্য যাঁরা প্রাণ দিয়েছিলেন তাঁদের জানাই সশ্রদ্ধ প্রণাম। সকলকে জানাই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা। আমাদের মাতৃভাষা সহ আমরা সব ভাষাকেই ভালোবাসি।’
এদিন পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে ভাষা আন্দোলনে শহিদদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনও করা হচ্ছে। রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক আবার ভাষা দিবসের এক অনুষ্ঠানে গিয়ে দুই বাংলার পুনরায় এক হওয়ারও বার্তা দিয়েছেন। ‘অমর একুশে’র মঞ্চে দাঁড়িয়ে সিএএ, এনআরসি নিয়েও সুর চড়ান তিনি। আবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে স্পিকার, সাংসদ, মন্ত্রী, কূটনীতিক-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ঢাকায় শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা দিবসের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তারপর সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয় ঢাকার শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেখানে কড়া নিরাপত্তারও ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাংলা ভাষার স্বীকৃতি আদায়ের জন্য শাসকের বিরুদ্ধে প্রাণ বাজি রেখে লড়াইয়ে নেমেছিল বাংলার মানুষ। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি, মাতৃভাষার স্বীকৃতির দাবিতে ১৪৪ ধারা অমান্য করে পথে নামে বাংলা ভাষাভাষী আট থেকে আশি বয়সি মানুষেরা। তাদের ঠেকাতে ওই প্রতিবাদ মিছিলের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ। পুলিশের গুলিতে বিদ্ধ হয়ে শহিদ হন আব্দুল বরকত, আব্দুল জববার, আব্দুস সালাম, রফিক ও শাফিউরের মত মিছিলের অগ্রভাগে থাকা নেতারা। এছাড়া পুলিশের গুলিতে এবং পদপিষ্ট হয়ে জখম হন শতাধিক ছাত্র ও সাধারণ মানুষ। শেষপর্যন্ত অবশ্য রক্তক্ষয়ী লড়াই শেষে মেলে জয়ের স্বাদ। তারপর ১৯৯৮ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো। শুধুমাত্র ভাষার জন্য একটা গোটা জাতির সেই সংগ্রাম আজও মনে রেখেছে গোটা দুনিয়া। তাই প্রতি বছরই ভাষা আন্দোলনের সেই শহিদদের স্মরণে পালিত হয় ‘অমর একুশ’।






