দিন কয়েক আগেই কোনও কারখানা বন্ধ করা যাবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই বার্তাকে গুরুত্ব না দিয়ে বন্ধ করা হল আরও একটি জুটমিল। শুক্রবার শ্যামনগরের ওয়েভারলি জুটমিলে ঝুলিয়ে দেওয়া হল সাসপেনশন অফ ওয়ার্কের নোটিশ। এর ফলে কর্মহীন হয়ে পড়ল প্রায় ৪০০০ শ্রমিক। ক্ষোভে কর্মীরা কারখানার অফিসে ভাঙচুর চালান। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় দুটি গাড়ি।
জানা গিয়েছে, প্রায় একমাস ধরে বন্ধ ছিল ওয়েভারলি জুটমিল। সম্প্রতি শ্রমিক ও মালিকপক্ষ বৈঠকের পর স্থির হয়েছিল, শুক্রবার চটকল খোলা হবে। সেইমত এদিন শ্রমিকেরা কারখানায় আসেন। কিন্তু কারখানায় এসেই তাঁদের চক্ষু চড়কগাছ! কারখানায় গেটে সাসপেনশন অব নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তখনই ক্ষোভে উত্তেজিত হয়ে পড়েন শ্রমিকেরা। বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন প্রায় কয়েক হাজার শ্রমিক। তারপর তাঁরা কারখানার ভিতরে ঢুকে অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। কারখানার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি গাড়িতে আগুনও ধরিয়ে দেন। তারপর জগদ্দল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর ঘোষপাড়া রোড অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা। যার জেরে সকালের ব্যস্ততম সময়ে দুর্ভোগে পড়তে হয় নিত্যযাত্রীদের। তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
কিন্তু এভাবে কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে নারাজ ওয়েভারলি জুটমিলের কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা বেতন পাচ্ছেন না। বকেয়া বেতন মেটাচ্ছে না মালিকপক্ষ। অবসরপ্রাপ্তদের পেনশনও দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। এদিন কারখানা খোলার কথা ছিল। কিন্তু খোলার বদলে সাসপেনশন অফ ওয়ার্কের নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়া হল। এদিকে, আর্থিক মন্দার কারণেই কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হল বলে জুটমিল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কারখানা চত্বরে কড়া পুলিশি নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে।





