Lashkar-e-Taiba Financier Killed : হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী খু’ন, পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদীদের উপর রহস্যময় হামলা! কারা রয়েছে এর পেছনে?

একটা সময় ছিল, যখন অপরাধীদের কাছে ছিল সীমাহীন ক্ষমতা। অস্ত্র, টাকা, রাজনৈতিক মদত—সব মিলিয়ে তারা ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে। সাধারণ মানুষ অসহায়ভাবে তাকিয়ে দেখত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও অনেক ক্ষেত্রে তাদের নাগাল পেত না। কিন্তু সময় বদলেছে। গোয়েন্দা প্রযুক্তির উন্নতি, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থার তৎপরতা এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে কড়া পদক্ষেপের ফলে আজ একের পর এক শক্তিশালী অপরাধী নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়ছে। যে সংগঠনগুলোর শিকড় গভীরে প্রোথিত ছিল, তারাও আজ ধ্বংসের মুখে।

বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলোর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার অন্যতম প্রধান উপাদান হলো অর্থায়ন। যত বড় সংগঠন, তত বেশি টাকার দরকার। অস্ত্র কেনা, নতুন নিয়োগ, প্রশিক্ষণ শিবির চালানো কিংবা বড়সড় হামলার পরিকল্পনা—সবকিছুই নির্ভর করে এই অর্থের ওপর। এই কারণেই সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলোর মধ্যে যারা অর্থ সংগ্রহ এবং ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকে, তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে ওঠে। তাদের কার্যক্রম যতদিন সচল থাকে, ততদিন সংগঠনেরও অস্তিত্ব থাকে। কিন্তু যখন এই অর্থের জোগান বন্ধ হয়ে যায়, তখনই সেই সংগঠন ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।

সেই কারণেই পাকিস্তানে বড়সড় এক ঘটনা ঘটে গেল। ঈদ-উল-ফিতরের দিন, করাচির রাস্তায় প্রকাশ্যে গুলিতে খুন হল লস্কর-ই-তৈবার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় অর্থদাতা আব্দুল রেহমান। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বাইকে চেপে আসা দুই অজ্ঞাত আততায়ী আচমকা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। মুহূর্তের মধ্যে রেহমান মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আশেপাশে উপস্থিত লোকজন আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করে। ঘটনাটি আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে, যা ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে। কিন্তু এত বড় মাপের এক সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে হত্যার পরেও আততায়ীদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি, যা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, আব্দুল রেহমান শুধু অর্থ সংগ্রহ করত না, বরং লস্কর-ই-তৈবার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে ফান্ড ম্যানেজ করত। বিভিন্ন ব্যবসায়ী, দাতব্য সংস্থা এবং অন্যান্য গোপন চ্যানেলের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ সে সরাসরি লস্কর-ই-তৈবার উচ্চপদস্থ নেতাদের কাছে পৌঁছে দিত। বিভিন্ন জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য এই অর্থ ব্যবহার করা হতো। করাচির মতো শহরে বসে থেকেই সে এই সংগঠনের মূল অর্থ ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করত। ফলে তার মৃত্যু লস্কর-ই-তৈবার জন্য বড়সড় ধাক্কা হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ Astrology: শুক্রের কৃপায় আসছে সৌভাগ্যের জোয়ার! ১ এপ্রিল থেকে এই ৩ রাশির ভাগ্যে বড় চমক!

এর মাত্র কয়েকদিন আগেই পাকিস্তানে আরেক সন্ত্রাসবাদী, আবু কাতাল খুন হয়েছিল। তাকেও একইভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। আবু কাতাল ছিল ভারতের মোস্ট-ওয়ান্টেড তালিকায় থাকা এক কুখ্যাত জঙ্গি, যে ২০১৭ সালের রিয়াসি বিস্ফোরণ এবং ২০২৩ সালে জম্মু-কাশ্মীরের তীর্থযাত্রী বাসে হামলার অন্যতম চক্রী ছিল। এবার পরপর এই ধরনের হত্যাকাণ্ড পাকিস্তানের সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এটি কি পরিকল্পিত প্রতিশোধ, নাকি পাকিস্তানের মাটিতে জঙ্গি কার্যকলাপ দমনের জন্য নতুন কোনো কৌশল? আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles