আবার জেগে উঠল মাউন্ট সিনাবাং, কালো ধোঁয়ায় ঢাকল আকাশ, দেখুন অগ্নুৎপাতের ভয়ঙ্কর ভিডিও

ইন্দোনেশিয়া দ্বীপে মোড়া একটি দেশ। আর এই দ্বীপরাষ্ট্রে রয়েছে একাধিক আগ্নেয়গিরি। ইন্দোনেশিয়ায় যে কটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে তার মধ্যে সব থেকে বেশি ভয়াবহ হল মাউন্ট সিনাবাং। ২০১৬ সালে শেষ বারের মত লাভা উদগীরণ করার পর এটি বেশ কিছু বছর চিরনিদ্রায় ঘুমিয়ে ছিল। কিন্তু এবছর আবার ঘুম থেকে জেগে উঠেছে এই লাভার পাহাড়। স্থানীয়দের বক্তব্য, গত সপ্তাহের শেষ থেকেই এর অগ্নুৎপাত হওয়া শুরু হয়েছে। সাথে কালো ধোঁয়া যেন মুড়ে ফেলেছে গোটা আকাশকে। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অবধি শুধু ধোঁয়া আর কালো ছাই ছাড়া আর কিছুরই অস্তিত্ব টের পাওয়া যাচ্ছে না।

মাউন্ট সিনাবাং-এর থেকে লাভা উদগীরণের ভয়াবহ শব্দে কেঁপে উঠেছে স্থানীয় গ্রামগুলিও। উত্তর সুমাত্রার কারো উপত্যকার লেক টোবা থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে এই আগ্নেয়গিরির অবস্থান। এই ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে জারি হয়েছে লালসর্কতাও। অনেক মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে দূরে সরানো হচ্ছে।

https://twitter.com/Reuters/status/1292757580897378304?s=20

স্থানীয় প্রশাসন তরফে জানানো হয়েছে প্রায় ৮ থেকে ৭০ ফুট উঁচু এই আগ্নেয়গিরি থেকে এখনও মাঝে মাঝে লাভা নির্গত হচ্ছে এবং সাথে সাথে প্রবল বেগে গ্যাস আর ছাই উদগীরণ হয়ে চলেছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ভয়াবহ ছবি পোস্টও করেছে ,যেখানে প্রবল ধোঁয়ায় চারিদিক ঢেকে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।

এই আগ্নেয়গিরির ইতিহাস জানলে দেখা যাবে এটি প্রথমবার জেগে উঠেছিল ১৯১২ সালে। এরপর একবিংশ শতকে প্রথম ২০১০ সালে অগাস্টে এই আগ্নেয়গিরি থেকে লাভা উদগীরণ দেখতে পাওয়া যায়। সেবার লাভার স্রোতে ঢাকা পড়েছিল বিস্তীর্ন এলাকা। এরপর সেই বছরই সেপ্টেম্বর আর অক্টোবরেও পুনরায় জেগে ওঠে এই পর্বত। তারপর ২০১৩ আর ১৪ সালেও জারি ছিল এর প্রলয় তান্ডব। তবে সব শেষে ২০১৬ সালে শেষবারের মতো জেগে উঠেছিল মাউন্ট সিনাবাং। সেবার ৭ জনের প্রাণ নিয়ে শান্ত হয়েছিল এটি। কিন্তু গত সপ্তাহ থেকে আবার ধীরে ধীরে জেগে উঠছে এই আগ্নেয়গিরি।

ইন্দোনেশিয়ার ভলক্যানোলজি অ্যান্ড জিওলজিক্যাল হ্যাজার্ড মিটিগেশন সেন্টারের আধিকারিক আরমান পুটেরা জানিয়েছেন, এই আগ্নেয়গিরি জেগে উঠতে শুরু করেছে এবং তা ধীরে ধীরে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। তাই মাউন্ট সিনাবাং সংলগ্ন এলাকায় মানুষের প্রবেশ নিষেধ করা হয়েছে।

আরও অন্যান্য খবর