আজ, ১৭ই মার্চ মহা আড়ম্বরে ঢাকাতে সূচনা হবে শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে বছরজুড়ে অনুষ্ঠানের সূচনা। পূর্বপরিকল্পিত সেই সূচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-সহ আরও কয়েক জন বিদেশি অভ্যাগতের। কিন্তু বিশ্বজুড়ে করোনা আতঙ্কে সে সবই বাতিল করতে হয়েছে। তাই শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে না পারলেও আজ ভিডিয়ো বার্তা পাঠাবেন মোদী। আজ প্রধানমন্ত্রীর অফিসের তরফ থেকে এমনটাই জানানো হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, মূল অনুষ্ঠান বর্ণাঢ্য রাখারই চেষ্টা রয়েছে তাদের। কিন্তু জনতার উপস্থিতি এড়ানো হচ্ছে। জনগণের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করেই এমন কর্মসূচি। বেশির ভাগ কর্মসূচি টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রচার করা হবে।
শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশের বঙ্গ প্রদেশের ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। মুজিবের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল ১৯৩৯ সালে মিশনারি স্কুলে পড়ার সময় থেকেই। পরবর্তীতে তিনি আইন পড়ার জন্য ভর্তি হন ইসলামিয়া কলেজে। এখানে তার ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য বিষয় ছিল একটি পৃথক মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন।
১৯৪৪ সালে বর্তমান বাংলাদেশের কুষ্টিয়ায় নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্র লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে শেখ মুজিব বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে পাকিস্তান এক মুসলিমপ্রধান রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও বাংলাভাষী মুসলিমদের বাধ্য করা হয় উর্দু ব্যবহারে। পাকিস্তান তার রাষ্ট্র ভাষার তকমাও দেয় উর্দুকে। প্রয়োজন হয়ে পড়ে নতুন এক বাংলাভাষী মুসলিম রাষ্ট্রের। বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমান বাংলাদেশের এই ‘মুক্তিযুদ্ধে’ সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। তৎকালীন আওয়ামী লিগের প্রধান হিসাবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার ডাক দেন। তাঁর অসহযোগ আন্দোলন বাংলাদেশ-এ জনপ্রিয়তা পায়। বিপুল জনসমর্থনে বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন তিনি।
১৯৭১ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অসম যুদ্ধে সামিল হয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। বাংলাদেশের এই স্বাধীনতা যুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর পাশে দাঁড়িয়েছিল ইন্দিরা গান্ধীর ভারত সরকার। ভারতের সহযোগিতায় ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে পাক সেনাবাহিনী। আসে কাঙ্খিত স্বাধীনতা। পৃথিবীর বুকে জন্ম নেয় একটি নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে আততায়ীর হাতে ১৯৭৫ সালে খুন হয়ে যান বঙ্গবন্ধু।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকার ১৭ মার্চ থেকে পরবর্তী এক বছরকে ‘মুজিব বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।





