প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। ইতিমধ্যেই ভারতে মোট ১১৯ জন মারণ চীনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত দুই। সারাবিশ্বে মৃতের সংখ্যা সাত হাজার ছাড়িয়েছে। এই মুহুর্তে কীভাবে করোনা সংক্রমণ রোখা সম্ভব, তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। এরই মধ্যে দিন কয়েক আগে করোনা রুখতে দিল্লিতে হিন্দু মহাসভা গোমূত্র পার্টির আয়োজন করেছিল। সেখানে দলেদলে মানুষ গিয়ে গোমূত্র পান করেন। সেখানে হিন্দু মহাসভার সভাপতি স্বামী চক্রপাণি, গোমূত্র উৎসব সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। তারই রেশ ধরে এবার কলকাতাতেও গোপুজো করে গোমূত্র খাওয়ানোর হিড়িক দেখা গেল।
ঘটনাটি ঘটিয়েছেন উত্তর কলকাতার বিজেপি নেতারা। সোমবার জোড়াসাঁকোয় গোপুজো করে সাধারণ মানুষকে গোমূত্র পান করালেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা। যদিও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে চলছে জোর আলোচনা।
উত্তর কলকাতার ওই বিজেপি নেতাদের দাবি, “এখনও পর্যন্ত করোনা ভাইরাস রোখার মতো কোনও ওষুধ পাওয়া যায়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই মারণ চীনা ভাইরাসকে একমাত্র রুখতে পারে গোমূত্রই। তাই গোমাতার পুজো করে আমরা সকলে গোমূত্র পান করছি। সবাইকে দিচ্ছি পান করতে।” বিজেপি নেতাদের এই দাবি ঘিরে বিভিন্ন মহলে হইচই পড়ে গিয়েছে।
বিজেপির এই গোমূত্র পানের বিরোধিতা করেছেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি পাল্টা বলেন, “ভারত প্রযুক্তি বিদ্যায় বিশ্বসেরা। সেই ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে গোমূত্র পান করিয়ে অবৈজ্ঞানিক বিষয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বিজেপি। আমার বিশ্বাস সাধারণ মানুষ কোনওভাবেই বিভ্রান্ত হবেন না। তাঁরা জানেন চিকিৎসা ছাড়া গোমূত্রের মাধ্যমে করোনা ভাইরাসকে ঠেকানো সম্ভব হবে না।”
সম্প্রতি ‘বড় মাপের করোনা ভাইরাস রুখতে কাপড় দিয়ে বাড়িতে মাস্ক তৈরির’ দাওয়াই দিয়ে হাসির খোরাক হয়েছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এই সমস্ত প্রসঙ্গ টেনে এনে গেরুয়া শিবিরকে আরোও কটাক্ষ করে পার্থ চট্টোপাধ্যায়, বলেন যে “রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা গরুর দুধে সোনা খোঁজেন, তাঁরা যে গোমূত্রে করোনা সারাবেন, সে বিষয়ে আশ্চর্যের কী আছে?”
তবে চিকিৎসকরা যদিও গোমূত্র পান করানোর বিষয়টিকে নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ। তাঁদের দাবি, করোনাভাইরাসের কোনো ঔষুধ এখনো আবিষ্কার হয়নি। সেখানে গোমূত্র পান করে কোনওভাবেই করোনা ভাইরাস রোখা সম্ভব নয়। বরং যিনি খাচ্ছেন তাঁর বিবিধ সমস্যা হতে পারে। গোমূত্র থেকে কঠিন কোনও রোগের শরীরে বাসা বাঁধাও অবিশ্বাস্য কিছুই নয়।





