নেপালের রাজনীতিতে আচমকাই এক নাটকীয় মোড়। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরদিনই বড় পদক্ষেপ নিলেন বলেন্দ্র শাহ। আর সেই পদক্ষেপ ঘিরেই এখন উত্তাল গোটা দেশ। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি-র গ্রেফতারি শুধু রাজনৈতিক মহলেই নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও তীব্র কৌতূহল ও বিতর্ক তৈরি করেছে। কী ঘটছে নেপালে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে সর্বত্র।
শপথ নেওয়ার মাত্র একদিনের মাথায় ওলির বিরুদ্ধে গ্রেফতারির নির্দেশ জারি হয়। অভিযোগ, ২০২৫ সালের জেন-জি বিক্ষোভে তাঁর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা ছিল। ভক্তপুরের গুন্ডু এলাকায় নিজের বাসভবন থেকেই তাঁকে হেফাজতে নেয় নেপাল পুলিশ। শুধু তিনি নন, তাঁর সরকারের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক-কেও গ্রেফতার করা হয়েছে। নতুন সরকারের এই পদক্ষেপে স্পষ্ট বার্তা আইনের চোখে কেউই বড় নয়।
এই গ্রেফতারির পরই মুখ খোলেন নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং। তাঁর বক্তব্য, প্রতিশ্রুতি মানেই তা রক্ষা করা, এবং আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। তিনি দাবি করেন, এটি প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, বরং ন্যায়বিচারের পথে প্রথম পদক্ষেপ। অন্যদিকে কাঠমান্ডু উপত্যকা পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী জানান, আইনি প্রক্রিয়া মেনেই সবকিছু এগোবে। তবে সরকারের এই কড়া অবস্থান রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে নিজের গ্রেফতারিকে সম্পূর্ণ ‘প্রতিহিংসামূলক’ বলে দাবি করেছেন ওলি। তিনি জানিয়েছেন, আইনের পথেই তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর নেপালে হওয়া জেন-জি বিক্ষোভে ব্যাপক হিংসার ঘটনা ঘটে। সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুতই সহিংস রূপ নেয়। সরকারি ভবন, সংসদ ভবন এমনকি দলীয় কার্যালয়েও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই অশান্তিতে প্রাণ হারান প্রায় ৭০ জন। সেই ঘটনার পরই রাজনৈতিক পালাবদলের পথ তৈরি হয়।
আরও পড়ুনঃ woman abu*se : “আমি মহাদেবের অবতার, তুমি আমার পার্বতী”, এই বিশ্বাসের ফাঁদেই সর্বনা*শ! সোশ্যাল মিডিয়ায় আলাপ, তারপর মাদক খাইয়ে ধ”র্ষণ ও ব্ল্যাকমেলের অভিযোগে তোলপাড় এলাকা!
এই পরিস্থিতিতে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটে নেপাল-এ। অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব নেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকি। তাঁর তত্ত্বাবধানে হওয়া নির্বাচনে বিপুল জয় পায় বলেন্দ্র শাহের দল। উল্লেখযোগ্যভাবে, পূর্ব নেপালের ঝাপা-৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও শাহের কাছেই হেরে যান ওলি। দীর্ঘদিন ধরে নেপালের রাজনীতির ‘স্থায়ী মুখ’ হিসেবে পরিচিত ওলির এই পতন এবং পরবর্তী গ্রেফতারি দুইই এখন দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিক নির্দেশ করছে। বিশেষ করে তাঁর চিন ঘনিষ্ঠতা ও ভারতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে যে বিতর্ক ছিল, তা নতুন করে সামনে আসছে। ফলে নেপালের রাজনৈতিক সমীকরণ এখন কোন দিকে মোড় নেবে, সেটাই দেখার।





