ধীরে ধীরে গোটা পৃথিবীকে গ্রাস করে নিয়েছে করোনা। বিশ্বের ১৯৬টি দেশে করোনা হানা দিয়েছে। চীন, ইতালি পেরিয়ে এবার করোনা প্রাণ নিতে শুরু করেছে স্পেনে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে মৃতের সংখ্যার নিরিখে এবার চীনকে ছাপিয়ে গেল স্পেনও। গত ২৪ ঘণ্টায় স্পেনে মৃত্যু হয়েছে ৭৩৮ জনের। সারা দেশে মোট মৃতের সংখ্যা ৩৪৩৪। স্পেনে একদিনে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৫৫২ জন।
বিশ্বজুড়ে ক্রমাগত ভয়াল আকার নিচ্ছে করোনাভাইরাস। উৎস দেশ চীনের দাবি সেখানে নতুন করে কেউ আক্রান্ত হননি। তবে পরিসংখ্যান বলছে, চীনে নতুন করে ৪৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশ বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলিতে মহামারীর আকার নিয়েছে এই ভাইরাস। আমেরিকায় এখনও পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৫৫০৮১ জন। আক্রান্তের সংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। সারা বিশ্বে এখনও পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৪,৩৬,০২৪ জন। মৃত্যু হয়েছে ১৯,৬৩০ জনের। তবে এই মহামারীর গ্রাস থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১,১১,৮৭৮ জন।
চীনের পর ইতালি এবং ইরানেই সবচেয়ে ভয়াবহ আকার নিয়েছিল করোনাভাইরাস। ইরানে মারা গিয়েছেন ২০৭৭ জন। ইতালি জুড়ে যেন আচমকাই মড়ক লেগেছিল। একদিনে মৃতের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে রেকর্ড গড়ে ফেলেছিল ইতালি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী এই মুহূর্তে ইতালিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৯,১৭৬। তার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৬,৮২০ জনের। মঙ্গলবার ৭৪৩ জন মারা গিয়েছেন। সেখানে চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ইতালির থেকে বেশি ( ৮১, ১৭১ )। কিন্তু মৃত্যুর সংখ্যা ইতালির অর্ধেকেরও কম। চীনে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩,২৭৭ জনের।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল যে ইতালির পথেই এগোচ্ছে স্পেন। মঙ্গলবার পর্যন্ত স্পেনে মৃত্যু হয়েছিল ৪৮৯ জনের। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছিল যে ইতালির মতো স্পেনেও মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। সেই সঙ্গে এটাও স্পষ্ট ছিল যে মৃতের সংখ্যার নিরিখে খুব তাড়াতাড়ি চীনকে ছাপিয়ে যাবে স্পেন। তাঁদের সেই আশঙ্কাই সত্যি হল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, করোনাভাইরাসে বিশ্বে প্রথম ১ লক্ষ সংক্রমণ হতে সময় লেগেছিল ৬৭ দিন। পরের ১ লক্ষ সংক্রমণ হতে লাগে ১১ দিন। আর তার পরের ১ লক্ষ সংক্রমণ হতে মাত্র ৪ দিন লেগেছে। এই পরিসংখ্যান দেখেই বোঝা যাচ্ছে, কী ভাবে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে এই ভাইরাস। আর তাই বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে লকডাউন বা কার্ফু জারি করা হয়েছে। সেই তালিকায় আছে ভারতও। করোনা সতর্কতায় ২৫ মার্চ থেকে ২১ দিনের জন্য লকডাউন চলবে সারা দেশে। এই দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৬০৬। দুই বিদেশি নাগরিক-সহ মৃত্যু হয়েছে মোট ১১ জনের। আজকে নতুন করে ৭০ জন আক্রান্তের খবর পাওয়া গিয়েছে।





