জাস্টিন ট্রুডোর দেশে রহস্য মৃত্যু বালোচিস্তানের প্রতি অত্যাচারী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা কারিমা বালোচের। যে মৃত্যু নিয়ে এখন তোলপাড় কানাডা।
ওই দেশের পাক বিরোধী গোষ্ঠীগুলি করিমা বালোচের মৃত্যুকে ‘খুন’ বলে দাবি করে দ্রুত ও বিস্তৃত তদন্ত চেয়েছে। তাঁদের দাবি, বালোচিস্তান ইস্যুতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরব হওয়াতেই সম্ভবত খুন করা হয়েছে করিমাকে। প্রথম সারির এই নেত্রীর মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছে ভারতও।
বালোচিস্তানের নারী আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন করিমা। প্রবল জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। গত রবিবার দুপুর তিনটের পর থেকেই মিলছিল না খোঁজ। অবশেষে তাঁর পরিবারের তরফে নিশ্চিত করা হয়েছে মৃত্যুর বিষয়টি। টরন্টো পুলিশের দাবি করিমার মৃত্যুতে কোনও সন্দেহজনক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত এখনও পর্যন্ত মেলেনি। আর এখানেই আপত্তি পাক বিরোধী গোষ্ঠীগুলির। তাদের দাবি, পাক কর্তৃপক্ষের তরফে করিমাকে যে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল, সেকথা মাথায় রেখে করিমা বালোচের মৃত্যু নিয়ে টরেন্টো পুলিশের অনেক বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজন। মূল অপরাধীদের যত দ্রুত সম্ভব চিহ্নিত করে তাদের কানাডার আইন মেনে সাজা দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে ওই বিবৃতিতে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এখনও পর্যন্ত করিমা বালোচের দেহের ময়নাতদন্তও হয়নি বলে অভিযোগ।
গত ১৫ বছরে বালোচিস্তানের ওপর পাকিস্তানের অত্যাচার মাত্রা ছাড়িয়েছে। অভিযোগ, সেখানে হাজার হাজার মহিলাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে পাকিস্তানি সেনা। ভারতও বালোচিস্তানের মানুষের উপর পাকিস্তানের নারকীয় অত্যাচারের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বহুবার। আর এর বিরুদ্ধেই গলা তুলেছিলেন কারিমা বালোচ।
বালোচ ন্যাশনাল মুভমেন্ট, বালোচিস্তান ন্যাশনাল পার্টি কানাডা, পাস্তুন কাউন্সিল কানাডার মতো বহু পাকবিরোধী গোষ্ঠী গুলি যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই মৃত্যুর সঙ্গে মিল রয়েছে বালোচ সাংবাদিক সাজিদ হোসেনের খুনের। সাজিদের হত্যাকে ‘ঠান্ডা মাথার খুন’ বলে উল্লেখ করে ওই বিবৃতিতে জানানো হয়, “করিমা বালোচের খুন আমাদের সাজিদ হোসেনের মৃত্যুর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।” প্রসঙ্গত, সাজিদও পাকিস্তানের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরব হওয়ায় সুইডেনে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত বহু দিন নিখোঁজ থাকার পরে তাঁর মৃতদেহের সন্ধান মেলে।