গত ৩০ বছরে এমন ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু এবার তাই-ই হল। তাইওয়ানের অর্থনীতি প্রবৃদ্ধি ছাড়িয়ে গেল চীনের অর্থনীতি প্রবৃদ্ধিকেও। ১৯৯০ সালের পর ফের এ বছর এমন ঘটনার সাক্ষী থাকল এশিয়া। জানা গিয়েছে ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে তাইওয়ানের অর্থনীতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২.৯৮ শতাংশ।
কিন্তু ২০২০ সালে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২.৩ শতাংশ যা তাইওয়ানের চেয়ে বেশ কম। ৩০ বছর আগে কমিউনিস্ট দেশটির চেয়ে বেশি অর্থনৈতিকভাবে বেশি লাভবান হয়েছিল তাইওয়ান। সেই সময় তাদের প্রবৃদ্ধি হয় ৫.৫ শতাংশ যেখানে চীনের বৃদ্ধি ছিল মাত্র ৩.৯ শতাংশ। ২০২০ সালে ফের একবার চীনকে টপকে নিজেদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটাল তাইওয়ান।
করোনা অতিমারির কারণে গোটা বিশ্বের অর্থনীতি নিম্নমুখী। কিন্তু তাইওয়ান নিজেদের প্রযুক্তি রফতানি ও অর্ধপরিবাহীর মাধ্যমে নিজেদের অর্থনীতিক বিকাশ ঘটিয়েছে। করোনা ভাইরাস সেই দেশে ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়ার আগেই গোটা দেশে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এটি তাদের অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
করোনা পরিস্থিতির কারণে অর্ধপরিবাহীর চাহিদা বাড়তে থাকে। গাড়িপ্রস্ততকারক সংস্থা যেমন ফোর্ড মোটরস বা নিসান মোটরস গাড়ি প্রস্তুত করাকে হ্রাস করে। এই সময় মানুষ ছিল ঘরবন্দি। ব্যবসা হোক বা পড়াশোনা, যে কোনও কারণেই ক্রমশ বাড়তে থাকে মোবাইল ফোন ও কম্পিউটারের চাহিদা। আর এই চাহিদা পূরণে সকলের নজর ছিল তাইওয়ানের দিকেই। প্রযুক্তিগত জিনিসের রফতানি বাড়ার ফলে তাদের অর্থনীতিও ক্রমশ চাঙ্গা হতে থাকে।
টিএস লম্বার্ডের অর্থনীতিবিদদের মতে, মেমরি চিপ আউটপুট ও গ্লোবাল প্রসেসর চিপ উৎপাদনে তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়া নিকটভাবেই একচেটিয়া অবস্থান করেছে। এই দুই এশিয়ান দেশের তাদের প্রযুক্তি রফতানির জন্য প্রধানত নির্ভর করে চীনা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর। প্রবৃদ্ধির জন্য তারা চীনের উপর খানিক নির্ভরশীল হলেও, তাদের জাতীয় সুরক্ষার গ্যারান্টার কিন্তু আমেরিকাই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেইনল্যান্ড চীন ভবিষ্যতে অর্ধপরিবাহী উৎপাদনে স্বনির্ভর হতে পারে, কিন্তু এই মুহূর্তে তাইওয়ানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় তারা অনেকটাই পিছিয়ে।





