‘বন্ধুত্ব’ শেষ! আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলালে ইমরানকে ছাড়া হবে না, পাক প্রধানমন্ত্রীকে ‘তোতাপাখি’ বলল তালিবানরা

বন্ধুত্বে আপাতত ইতি। আফগানিস্তান দখলের পর এবার ইমরান খানের সঙ্গেও সংঘাত শুরু তালিবানের। পাক প্রধানমন্ত্রীকে ‘তোতাপাখি’ বলে বিদ্রূপ করল তালিবান। জেহাদি সংগঠনের তরফে সা জানিয়ে দেওয়া হল যে তাদের নিজেদের বিষয়ে যদি নাক গলায়, তাহলে ইমরান খানকে ছেড়ে কথা বলবে না তালিবান।

আফগানিস্তানের সরকার গঠন নিয়ে তাদের অন্তর্দ্বন্ব প্রকাশ্যে এসেছে। জেহাদি সংগঠনের একাধিক গোষ্ঠী ক্ষমতা দখলের লোভে নিজেদের মধ্যে রীতিমতো ঝামেলা করা শুরু করে দিয়েছে। আর এই নিয়েই কিছুদিন আগে উদ্বেগ প্রকাশ করেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

ইমরান খানের কথায়, “আফগানিস্তানে কারোর হাতের পুতুল বা তোতাপাখির মতো সরকারকে মানুষ কোনওভাবেই সমর্থন করবে না। এমন সরকার তৈরি হলে তা আফগানবাসীদের জন্য অপমানজনক হবে। তারা এই সরকার মানবে না”। আসলে ইমরানের আশঙ্কা, আমেরিকাই পরবর্তীকালে হয়ত আফগানিস্তানের নতুন সরকারকে পরিচালনা করবে।

পাক প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছে তালিবান। তালিবানের এক মুখপাত্রের কথায়, “ইমরান খান নিজেই তো মনোনীত প্রধানমন্ত্রী। ও একটা তোতাপাখি। আমরা যেমন অন্য দেশের বিষয়ে নাক গলাই না, তেমনই অন্য কেউ আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলালে সেটা বরদাস্ত করা হবে না”।

তালিবানের ওই মুখপাত্রের কথায়, “ইমরান খান আফগানিস্তানে স্বতন্ত্র সরকার চাইছেন। অথচ, পাকিস্তান নিজেই চরম বিপদে। ইমরান নিজেই নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নন, পাকিস্তানের মানুষের ভোটে তিনি প্রধানমন্ত্রী হননি”। তালিবান মুখপাত্র স্পষ্ট জানায় যে পাকিস্তানের মানুষই বলে ইমরান খানের সরকার আসলে সেনার দ্বারা পরিচালিত তোতাপাখি।

বলে রাখি, তালিবান আফগানিস্তান দখলের পর সম্ভবত সবথেকে বেশি খুশি হয়েছিলেন ইমরান খান। তালিবানের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে কাশ্মীরে অশান্তি পাকানোর ছকও কষছিল পাকিস্তান। কিন্তু এখন নিজেদের মধ্যেই দ্বন্দ্ব আর এর জেরে নিজেরাই নাস্তানাবুদ হচ্ছে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান। তবে এর ফলে ভারত যে খানিকটা স্বস্তি পাবে, তা বলাই বাহুল্য।

RELATED Articles