দেশের নাম বদলে গিয়ে হবে ‘ইসলামিক এমিরেট অফ আফগানিস্তান’, পাল্টে যাবে দেশের পতাকাও

আমেরিকা কল্পনাও করতে পারেনি যে তালিবানরা এত দ্রুত কাবুল দখল করে নেবে। হাতে তিন-চার মাস সময় রয়েছে ভেবেই ধীরে ধীরে কাবুল থেকে নাগরিকদের আমেরিকাতে সরানোর কাজ চলছিল। কিন্তু ৩-৪দিনের মধ্যেই কাবুলে ঢুকে পড়ল তালিবানরা। মাজার-ই-শরিফ, জালালাবাদ পেরিয়ে এখন তালিবানদের আয়ত্তে চলে এসেছে কাবুল।

রবিবার রাতে সংবাদমাধ্যম ‘আল-জাজিরা’য় যে ছবি প্রকাশ হয়েছে, তা দেখে রীতিমতো শিউড়ে উঠেছিল গোটা বিশ্ব। আফগান প্রেসিডেন্ট ভবনে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তালিবানরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। আফগানবাসীদের ২০ বছর আগেকার দুঃস্বপ্ন ফিরতে চলেছে। তালিবান সূত্রে খবর, দ্রুতই আফগানিস্তানের নাম মুছে যাবে। দেশের নাম ঘোষিত হবে ‘ইসলামিক এমিরেট অফ আফগানিস্তান’।

তালিবান সূত্রে এমনও দাবী করা হয়েছে যে আফগানিস্তানের পতাকা, দেশের আইন সবটাই বদলে যাবে। দেশের জাতীয় পতাকা বদলে যাবে, লাগানো হবে তালিবানের প্রতীক। তালিবানরা ফের ইসলামিক আইন কায়েম করবে বলেও আশঙ্কা আফগানবাসীদের। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত তালিবান শাসন চলাকালীন এই ইসলামিক আইন জারি ছিল। এর জেরে মেয়েদের পোশাক থেকে শুরু শিক্ষা, সবকিছুতেই ফতোয়া জারি করা হয়েছিল। সামান্য কিছু অপরাধেও মিলত প্রাণদণ্ড।

গত শনিবার আফগান প্রেসিডেন্ট আসরাফ ঘানি দেশবাসীকে অভয়বাণী দিয়েছিলেন। যখন আফগানিস্তান ৯০ শতাংশ তালিবানের দখলে, তখনও পর্যন্ত তিনি বলেছিলেন যে তিনি আফগানবাসীদের মরতে দেবেন না। কিন্তু রবিবার আফগানিস্তান থেকে থেকে একের পর এক আতঙ্কের খবর এল। সকালে জালালাবাদ দখল করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তালিবানরা কাবুলে ঢুকে পড়ে। সূত্রের খবর, দুপুরেই দেশ ছেড়ে চলে যান আসরাফ ঘানি। এরপরই কাবুল জুড়ে বিজয় উল্লাস শুরু করে তালিবানরা।

আরও পড়ুন- তৃণমূলের ‘খেলা হবে’ দিবসের সূচনা করলেন দিলীপ ঘোষ, ইকো পার্কে ফুটবল খেলায় মাতলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি

প্রেসিডেন্টের চলে যাওয়ার খবর পাওয়ার পরই নানান জায়গা থেকে আফগান সেনাদের সরাতে থেকে তালিবানরা। তবে সন্ত্রস্ত আফগানবাসীদের তালিবান মুখপাত্র আশ্বাস দেন, “কাউকে দেশ ছাড়তে হবে না। আমাদের সবাইকে দরকার”। তিনি এও আশ্বাস দেন দেন যাতে শহরে কোনও লুটপাট, হানাহানি না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে সংগঠনের সদস্যদের।

তবে মুখে যতই আশ্বাসের বার্তা দেওয়া হোক, তালিবানদের বিশ্বাস করতে পারছে না আফগানবাসী। বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলাদের বিয়ে করা বা যৌনদাসী হওয়ার প্রস্তাব, এ সব নতুন নয় তালিবানি শাসনে। ২০ বছর আগের কথা ভুলে যাওয়া কী সহজ? এই কারণে অধিকাংশ বাসিন্দা দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছে। পথেঘাটে সাধারণ মানুষের হুড়োহুড়ি চোখের পড়ার মতো। তালিবানদের দখলে সমস্ত সীমান্ত চলে যাওয়ায় পালানোর একমাত্র রাস্তা বর্তমানে একটাই, কাবুল বিমানবন্দর। ক্রমশ বাড়ছে ভিড় সেখানে।

আরও অন্যান্য খবর