গল্প নয় সত্যি! মাছ ধরতে গিয়েই রাতারাতি কোটিপতি, মাছের সঙ্গেই গুপ্তধন পেলেন মৎস্যজীবী

মাছের পেটে গুপ্তধন পাওয়ার গল্প ছোটবেলায় আমরা অনেকেই পড়েছি। গল্পে নয় সত্যি হল বাস্তবে। মাছের পেটে পাওয়া গেল গুপ্তধন। গুপ্তধনের সন্ধান পেলেন পাকিস্তানি এক মৎস্যজীবী। তাঁর জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির ক্রোকার মাছ। ওই মাছ ধারাতেই কোটিপতি হয়েছেন তিনি। পাকিস্তানি মৎস্যজীবী হানিফ কাটিয়ার ও তার সঙ্গীদের জালে ধরা পড়েছে প্রায় ৩ হাজার ক্রোকার মাছ। এর মূল্য প্রায় কয়েক কোটি টাকা।

পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের সমুদ্র এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে ওই মৎস্যজীবী পেয়েছেন ক্রোকার মাছ। ক্রোকার মাছই তাদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদপত্র ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুসারে, “ইব্রাহিম কোস্টাল মিডিয়া সেন্টারের মুখপাত্র কামাল শাহ জানিয়েছেন যে হানিফ এবং তাঁর সঙ্গীরা ঠাট্টা জেলায় অবস্থিত কেটি বান্দর বন্দরের কাছে বিরল প্রজাতির ক্রোকার মাছ ধরেছে। এই মাছের মূল্য কোটি টাকার বেশি।”

জানা গিয়েছে, এই প্রথম নয়, আগেও ওই এলাকায় মাছ ধরতে গিয়েছেন হানিফ। এবার তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা কেটিবন্দরের কাছে নৌকায় মাছ ধরতে বেরিয়েছিলেন। তখন এক ঝাঁক ক্রোকার মাছ তাদের জালে আটকা পড়ে, দেখেই চমকে যান হানিফ ও তার সঙ্গীরা। মাছ পেয়ে তারা বুঝতে পারেননি তার বাজার দাম এমন আকাশ ছোঁয়া। পরে খোঁজখবর নিতে জানতে পারেন ক্রোকার মাছের বাজারদর। হানিফ ও তার সঙ্গীরা জানতে পারেন এটি বিরল মাছ এবং বাজার মূল্য কোটি টাকা।

এই খবর শুনে আনন্দের সীমা ছিলনা। এ যেন মাছের সাথে গুপ্তধন পাবার মত খবর। গল্পের মত সত্যি হলো হানিফের মাছের সাথে গুপ্তধন পাওয়া। কামাল শাহ বলেন, “ক্রোকার মাছ মূলত পশ্চিম আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলীয় এলাকায় পাওয়া যায়। এই মাছ পাওয়া যায় দক্ষিণ ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার উপকূলে। এটি সাধারণত উপসাগর এবং মোহনায় বালুকাময় বা কর্দমাক্ত তলদেশে পাওয়া যায়।”

তবে কী কারণে ওই মাছ এতদূরে পাওয়া গেছে এবং কীভাবে সেখানে মাছগুলি এসেছে সেটা বলতে পারেননি কেউই। কামাল আরও জানান, “এই মাছ প্রতি কেজি ১০০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও এর বায়ু মূত্রাশয়ের দাম আকাশচুম্বী। ক্রোকার মাছের বায়ু মূত্রাশয় এবং এতে থাকা চর্বি অস্ত্রোপচারের সুতো তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এই কারণে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।”

জানা গিয়েছে, ক্রোকার এক ধরনের পরিযায়ী মাছ এবং উপকূলীয় এলাকায় দলবদ্ধভাবে পাওয়া যায়। আগে পাকিস্তানের সামুদ্রিক এলাকায় এর দেখা মিললেও এখন ওই এলাকায় ক্রোকার মাছ পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। চিনা খাবারে ক্রোকার মাছের বায়ু মূত্রাশয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ক্রোকারের বায়ু মূত্রাশয় রাখাকে সম্পদের প্রতীক হিসাবেও দেখে চিনারা। চিনের বাসিন্দারা ক্রোকার মাছের শুকনো বায়ু ব্লাডার রাখে। শুকনো মাছের ব্লাডার প্রতি কেজি ২০ থেকে ৮০ হাজার মার্কিন ডলার হিসাবে বিক্রি হয়।

RELATED Articles