দক্ষিণ চীন সাগরে আধিপত্য বিস্তার করে ভুল করছে চীন, ফের জানাল ট্রাম্প প্রশাসন

দক্ষিণ চীন সাগরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চীনকে ফের আরেকবার বিঁধল আমেরিকা। এছাড়া ভারত প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে বেজিং অবাধ আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছে এই ব্যাপারেও নিজের কড়া মনোভাব জানিয়ে রাখল ট্রাম্প প্রশাসন। এছাড়াও জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে সদর্থক জানিয়েছে আমেরিকা।

ইতিমধ্যেই দক্ষিণ চীন সাগরে দুটি রণতরী পাঠিয়েছে আমেরিকা। এই রণতরী দুটির নাম হল ‘নিমিটজ’ ও ‘রোনাল্ড রেগান’।‌ এগুলি হল ১২০টি যুদ্ধবিমান বহনকারী দুই মার্কিন এয়ারক্র্যাফ্ট ক্যারিয়ার।

মার্কিন স্বরাষ্ট্র সচিব মাইক পম্পিও সম্প্রতি আরও একবার চীনের বিরুদ্ধে আমেরিকার অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন। ভিয়েতনাম উপকূলের কাছে প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জে ঘাঁটি গাড়া দুই মার্কিন সুপার ক্যারিয়ার চীনের নৌ সেনাবাহিনীকে টক্কর দিচ্ছে। এদিকে আবার এর কাছাকাছি দক্ষিণ প্রান্তেই রয়েছে হাইনান দ্বীপে চিনের পরমাণু সাবমেরিন ঘাঁটি।

তবে মার্কিন স্বরাষ্ট্র সচিবের বিবৃতি শুধু যে ভারত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বন্ধু রাষ্ট্রগুলির পাশে দাঁড়ানো কে সমর্থন করছে সেটা কিন্তু নয়। সেইসঙ্গে আমেরিকা এটাও চীনকে বুঝিয়ে দিতে চাইছে যে দক্ষিণ চীন সাগরে আমেরিকাও নিজের শক্তি বৃদ্ধি করছে। আমেরিকা এই ব্যাপারে ফিলিপিন্স ও ভিয়েতনামের পাশে দাঁড়িয়েছে সেই সঙ্গে দক্ষিণ চীন সাগরে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার দাবিও সুপ্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে।

প্রসঙ্গত ভারতীয় ভূখণ্ডে চীনা বাহিনী যেভাবে হানা দিয়েছিল সেই প্রসঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক সপ্তাহ আগেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে বর্তমান বিশ্বে সাম্রাজ্য দখলদারির কোন স্থান নেই এবং যারা উন্নয়নের সমর্থন করবে তারাই ভবিষ্যতে টিকে থাকবে। ‌

এছাড়া দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের আধিপত্যকে স্তরে বাঁধা দিচ্ছে ভারতও। চলতি বছরের শেষে ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট রডরিগো দুতের্তের দিল্লি সফরের কথা রয়েছে। সেখানে এই ব্যাপারে আলোচনা হবে বলেই মনে করছেন কূটনীতিকরা।

ইতিমধ্যেই স্কারবরো খাঁড়ি, স্প্র্যাটলি দ্বীপ, মিসচিফ খাঁড়ি এবং দ্বিতীয় টমাস শোল নিয়ে ফিলিপিন্সকে সমর্থন জানিয়েছে আমেরিকা এবং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে এই সমস্ত অঞ্চলে চীনের ক্ষমতা দখলের দাবি অবৈধ।

শুধু তাই নয়, আসিয়ান সদস্য দেশগুলির উপরে সামরিক শক্তির প্রয়োগে ওই অঞ্চলে নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছে বেজিং। এদিকে কম্বোডিয়া, লাওস ও মায়ানমারের সঙ্গে সখ্যতা বজায় রাখছে চীন। এর মাধ্যমে তারা আসিয়ান ফোরামে নিজেদের প্রাধান্য বজায় রাখতে চায়।
কিন্তু আমেরিকার সঙ্গে সঙ্গে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়া চীন বিরোধী মনোভাব পোষণ করায় চীনের এই কাজ সহজ হবে না‌।

RELATED Articles

Leave a Comment