আমেরিকায় (America)পা রাখা মানেই যেন এক নতুন স্বপ্নের জগতে প্রবেশ। শিক্ষা, চাকরি কিংবা নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায় প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ ভিসার আবেদন করেন। তবে সবার জন্য এই পথ সহজ নয়। বিশেষ করে কিছু দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে অভিবাসন প্রক্রিয়া বরাবরই কঠোর। একসময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই নিয়ম আরও কঠোর করেছিলেন, যা পরবর্তীতে জো বাইডেন বাতিল করেন। কিন্তু সময়ের পালা বদলে আবারও কঠোর হতে চলেছে আমেরিকার অভিবাসন নীতি।
বিগত কয়েক বছরে আমেরিকার অভিবাসন নীতিতে নানা পরিবর্তন এসেছে। একদিকে যেমন বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বেড়েছে, অন্যদিকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। আমেরিকার প্রশাসন একাধিকবার জানিয়েছে যে, তাদের সীমান্ত ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে প্রশাসন। সূত্রের খবর, এবার পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের নাগরিকদের আমেরিকায় প্রবেশে নতুন শর্ত আরোপ করা হবে।
নতুন এই বিধিনিষেধের মূল কারণ কী? প্রশাসনের একাংশের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত। সম্প্রতি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের তথ্য যাচাই-বাছাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার খতিয়ানও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে কোনো দেশে কী কী সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটাও খতিয়ে দেখছে আমেরিকা। এই পর্যালোচনার ভিত্তিতেই পাকিস্তান ও আফগান নাগরিকদের ক্ষেত্রে নতুন শর্ত জুড়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুনঃ প্রশাসন বনাম পড়ুয়া সংঘাত চরমে! দাবিপূরণ না হলে যাদবপুরে ‘তালা ঝোলানো’, বন্ধ হতে পারে প্রশাসনিক কাজকর্ম?
তবে এই সিদ্ধান্ত বিতর্কও তৈরি করেছে। কারণ, কিছুদিন আগেই পাকিস্তানের সন্ত্রাস দমন নীতির প্রশংসা করা হয়েছিল। এরপরেই কেন এমন কড়া সিদ্ধান্ত? বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার স্বার্থেই এই নীতি বদলানো হচ্ছে। যদিও অতীতে ট্রাম্প যখন প্রথমবার অভিবাসন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন, তখন তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল সেই মামলা। ২০২১ সালে বাইডেন এসে নিষেধাজ্ঞা তুলে দেন, কিন্তু ফের ট্রাম্পের নেতৃত্বে কঠোর নীতির পথে হাঁটছে প্রশাসন।
এই নতুন নিয়ম কার্যকর হলে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের নাগরিকদের আমেরিকায় প্রবেশ আরও কঠিন হয়ে যাবে, যা তাদের উচ্চশিক্ষা, চাকরি বা স্থায়ী বসবাসের সুযোগকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী ও কর্মজীবীদের জন্য এটি এক বড় ধাক্কা হতে পারে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই নীতি বাস্তবায়িত হতে পারে বলে জানা গেছে। এখন দেখার, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিক্রিয়া আসে কিনা এবং এটি ভবিষ্যতে আরও কোন কোন দেশের ওপর প্রভাব ফেলে।





