রোজগারের তাগিদে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ লোকাল ট্রেনে চেপে হাওড়া থেকে খড়গপুর, মেদিনীপুর বা তারও দূরবর্তী এলাকায় যাতায়াত করেন। কর্মস্থলে পৌঁছনোর সবচেয়ে ভরসাযোগ্য মাধ্যম হল এই লোকাল ট্রেন। সকাল-বিকেল ট্রেনের কামরাগুলিতে উপচে পড়া ভিড়ই বলে দেয়, মানুষের জীবনে লোকাল ট্রেন ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সম্প্রতি, রেল দফতর থেকে আসা খবর নিত্যযাত্রীদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরেই রেলের বিভিন্ন শাখায় উন্নয়নমূলক কাজের জন্য একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে বা চলাচল সীমিত করা হয়েছে। যার ফলে কর্মস্থলে যেতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে। এবার আরও এক দফা বড়সড় সমস্যার ইঙ্গিত মিলছে। হাওড়া-খড়গপুর শাখায় মেগা পাওয়ার ব্লকের কারণে একসঙ্গে ২০০-র বেশি লোকাল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল হতে পারে! স্বাভাবিকভাবেই, এই খবরে রীতিমতো আতঙ্কিত নিত্যযাত্রীরা।
রেল সূত্রে খবর, আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে ১৯ দিন ধরে হাওড়া-খড়গপুর শাখায় পাওয়ার ব্লক থাকবে। এই সময়ের মধ্যে একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে, যার মধ্যে অন্যতম সাঁতরাগাছি ইয়ার্ডের রিমডেলিং। এই কাজের জন্য মোট ২১২টি লোকাল ট্রেন এবং ৬৪টি এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী সোমবার রেল দফতর এই বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা করতে পারে।
আরও পড়ুনঃ সন্ত্রাস দমনে প্রশংসা, তবু আমেরিকায় নিষেধাজ্ঞার কোপ! পাকিস্তানিদের জন্য ফের কঠোর হল প্রবেশ নীতি!
জানা যাচ্ছে, ২ মে থেকে ১৮ মে পর্যন্ত আপ-ডাউন লাইনে ৬৪টি দূরপাল্লার মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল রাখা হতে পারে। পাশাপাশি, ৩ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত স্বল্প দূরত্বে চলবে ১২ জোড়া এক্সপ্রেস ট্রেন, যার ফলে অনেক ট্রেনের রুট বদলে যাবে। একই সঙ্গে ১৫টি দূরপাল্লার ট্রেন অনিয়মিত সময়ে চলবে। ফলে কর্মস্থলে যেতে নিত্যযাত্রীদের যেমন সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে, তেমনই দূরপাল্লার যাত্রার ক্ষেত্রেও বড়সড় বিঘ্ন ঘটতে পারে।
রেল সূত্রের খবর অনুযায়ী, পরীক্ষার মরশুমের জন্য আগেই এই কাজ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার কোনওভাবেই পিছিয়ে দেওয়া হবে না। এই সময়ের মধ্যে যাঁরা ট্রেনে করে যাতায়াত করেন, তাঁদের আগেভাগেই বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে হবে। কারণ একসঙ্গে এতগুলি ট্রেন বাতিল হলে যাতায়াতের সমস্যা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এখন দেখার, যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে রেল দফতর কোনও বিকল্প ব্যবস্থা ঘোষণা করে কি না!





