ছিঃ! সংখ্যালঘু নির্যাতনে অনন্য নজির পাকিস্তানের, অপহরণ করে ২ হিন্দু তরুণীর ধর্মান্তকরণ পাকসেনার ঘনিষ্ঠ মৌলবি’র

পাকিস্তানের মাটিতে সংখ্যালঘুরা যে ঠিক কতটা অত্যাচারিত তার খবর আমরা কোন‌ও না কোন‌ও সূত্র মারফত রোজ পাই।
আর এভাবেই দিনের পর দিন এই ইসলাম প্রধান রাষ্ট্রে সংখ্যালঘু নির্যাতনের মাত্রা আকাশছোঁয়া পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। ফের হিন্দু ধর্মান্তকরণের একটি নিন্দনীয় ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে।  পাকিস্তানে সংখ্যালঘু হিন্দু তরুণীদের অপহরণ করে জোর করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে এক মৌলবীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মিলান আবদুল খালিক ওরফে মিয়ান মিঠু নামের ওই মৌলবি আবার পাকসেনার খুবই ঘনিষ্ঠ।
পাকিস্তানের সিন্ধ এলাকার প্রভাবশালী ভারচুণ্ডি দরগার পীর মিয়ান মিঠু। পাকসেনার সঙ্গে তার অত্যন্ত ভাল সম্পর্কের  পাশাপাশি পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলেও বেশ পরিচিতি রয়েছে।
সূত্র মারফত খবর, এলাহি জীবনযাপন করেন মিয়ান মিঠু। সদাই সশস্ত্র দেহরক্ষী নিয়ে ঘুরে বেড়ান। পাকিস্তান ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সদস্য ছিলেন ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত। সেই সময় সেই সময় লিবারেল পিপিপি’র প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। পরে সেদেশের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফ দলের সঙ্গে হাত মেলান।

সূত্র মারফত খবর, এই মৌলবীর হাতে অপহৃতা দুই তরুণীর নাম একতা কুমারী এবং ধ্বনি কোহলাহি। বালোচিস্তানের বাসিন্দা একতা। পেশায় শিক্ষিকা। অভিযোগ, ইয়ার মহম্মদ ভু্ট্টো নামের এক যুবক একতাকে অপহরণ করে সিন্ধ প্রদেশে মিয়ান মিঠুর দরগায় নিয়ে যায়। সেখানেই তাঁকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য করা হয়। নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় আয়েশা। তারপর ভুট্টোর সঙ্গে নিকাহ কবুল করানো হয়। একতার অপহরণের পরদিনই নাকি করাচির জুমা বাজার থেকে ধ্বনিকে অপহরণ করা হয়েছিল। একইভাবে মিয়ান মিঠু তাঁকে জোর করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করিয়ে আরেক মুসলিম ব্যক্তির সঙ্গে নিকাহ কবুল করান। অভিযোগ, এভাবে হিন্দু তরুণীদের ধর্ম পরিবর্তন করিয়ে নিকাহর আড়ালে তাঁদের ক্রীতদাসের মতো বিক্রি করে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, বেশ কিছু বছর ধরেই পাকিস্তানে সংখ্যালঘু হিন্দু মেয়েদের জোর করে ধর্ম পরিবর্তন করানোর অভিযোগ উঠছে। অভিযুক্ত মিয়ান মিঠু মৌলবির নামে প্রথম অভিযোগ উঠেছিল ২০১২ সালে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ২০০ হিন্দু মেয়ের ধর্ম পরিবর্তনের অভিযোগ রয়েছে মিঠুর বিরুদ্ধে। কিন্তু পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলে এতটাই দাপট এই মৌলবির যে এখন‌ও পর্যন্ত তার নামে পাকিস্তানের কোন‌‌ও থানায় একটা অভিযোগ নেওয়া হয়নি।

RELATED Articles