আমেরিকা আর আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে না WHO কে যদি না করোনা সংক্রমণ সম্পর্কে চীনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা হয়, সাফ জানিয়ে দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার WHO-এর ডিরেক্টর জেনারেল তেদ্রোস আধানোম ঘেব্রেইয়েসাসকে একগুচ্ছ অভিযোগ জানিয়ে আর্থিক সহায়তা বন্ধ এবং সংগঠন থেকে আমেরিকার নাম প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
সেই চিঠি তিনি টুইটারে পোস্ট করেছেন। কি লেখা আছে সেই চিঠিতে?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে চীনের উহান শহরে প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পরে প্রত্যক্ষ প্রমাণ-সহ একাধিক তথ্য হাতে এলেও তা জনসমক্ষে আনার কোনও চেষ্টা করেননি ঘেব্রেইয়েসাস। উলটে চীনকে আড়াল করতে বার বার অতিমারিকে লঘু করে দেখানোর চেষ্টায় বিশ্ববাসীকে বোকা বানিয়েছেন WHO প্রধান।
https://twitter.com/realDonaldTrump/status/1262577580718395393?s=20
তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধানের প্রতি রীতিমত তোপ দেগেছেন, ‘চীন সরকারের দেওয়া রিপোর্টের সঙ্গে অন্যান্য সূত্রে পাওয়া তথ্যের সংঘাত ঘটলেও পরিস্থিতি যাচাই করতে কোনও অনুসন্ধান করেনি WHO। উলটে তাইওয়ান সরকারের থেকে পাওয়া তথ্য গোপন করে সম্ভবত রাজনৈতিক ফায়দা লোটার উদ্দেশে বিশ্বের নজর থেকে চীনকে আড়াল করার নিরন্তর চেষ্টা করে গিয়েছেন।’
শুধু তাই নয়, পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে চীনে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দলকে ঢুকতে দেওয়ার বিষয়েও বেজিংয়ের উপরে চাপ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এরপরেই ট্রাম্প স্পষ্ট হুমকি দিয়েছেন, ‘যদি WHO আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ না করে, সে ক্ষেত্রে সংস্থাকে আমেরিকার আর্থিক সাহায্য সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি সংস্থায় আমেরিকার অন্তর্ভুক্তি বজায় থাকবে কি না, তাই নিয়েও ভাবনাচিন্তা করছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের এই বিস্ফোরক অভিযোগে নড়েচড়ে উঠেছে গোটা বিশ্ব। চীনের কারণেই বিশ্বের লাখ লাখ লোকের প্রাণ দিয়েছে বলে দাবি করছে আমেরিকা। সেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চীনের ওপর পক্ষপাতিত্ব করছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার এই দাবিই চাঞ্চল্য ফেলে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি করোনাভাইরাস সংক্রমণের উৎস খুঁজতে চীনে নিরপেক্ষ তদন্তের আর্জি জানিয়েছে ভারত-সহ বিশ্বের ১২০টি দেশ। প্রথমে বিরোধিতা করলেও সোমবার সেই আর্জি মেনে নিয়েছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। যদিও তিনি জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে মানুষের প্রাণরক্ষা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বিশ্বে করোনাপরিস্থিতি কিছুটা আয়ত্তে এলে তদন্ত শুরুর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
অতিমারি নিয়ন্ত্রণে তাঁর সংস্থার ব্যর্থতার কথা আংশিক স্বীকার করেছেন WHO-এর ডিরেক্টর জেনারেলও। গতকাল রাষ্ট্রপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণাধীন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য অ্যাসেমব্লির সামনে সংস্থার ভূমিকা পর্যালোচনার প্রস্তাবকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন।





