চীন এই নামটি আর অন্যায় এই শব্দটি প্রায় সমার্থক। ক্ষমতার লোভে নিজেদের সম্প্রসারণবাদী নীতির জন্য বিশ্বমঞ্চে প্রায় একঘরে জিনপিংরা। যেভাবে হংকংয়ে গণতন্ত্রের ‘ধর্ষণ’ করেছে এই কমিউনিস্ট দেশটি তা নাৎসিদের কথা মনে করিয়ে দেয়। আর এবার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলো চীনের পদস্থ আধিকারিক কর্নেল রেন গুয়োকোয়াং-এর কথায়। তাঁর সাফ হুমকি, তাইওয়ান নাকি দখল করবে চীন। আর চাইলেও তা আটকাতে পারবে না মার্কিন প্রশাসন।
শনিবার বেজিংয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে গুয়োকোয়াং বলেন, এক চীন নীতি থেকে একপাও পিছু হটবে না তাঁরা। তাইওয়ান চীনের অভিন্ন অংশ। আর সেখান থেকে সার্বভৌমত্বে আঘাত আসলে তাইওয়ান দখল করে নেওয়া হবে। চাইলেও কেউ তা আটকাতে পারবে না। সম্প্রতি আমেরিকার সঙ্গে ৫০ কোটি ডলারের সামরিক চুক্তি করেছে তাইওয়ান। আর এতেই বেজায় চটেছে চীন। প্রধান শত্রুর সঙ্গে তাইওয়ানের এই চুক্তি তাঁরা মোটেও ভালো চোখে দেখেননি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, স্বাধীনতা ভুলে শান্তিপূর্ণভাবে চীনের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার জন্য গতবছরই তাইওয়ানকে বার্তা দিয়েছিল বেজিং। তবে মুখে শান্তির কথা বললেও, প্রয়োজনে সামরিক বাহিনীও নামানো হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন চীনা প্রেসিডেন্ট।
তবে স্বাধীনতা বিসর্জন দিয়ে চীনের অনুগত হতে রাজি নয় তাইওয়ান। চীনা আগ্রাসনের কড়া জবাব দিতে তৈরি তাঁরাও। ‘এক চীন’ নীতির অন্তর্গত তাইওয়ানের উপর দাবি করে এসেছে চীন। তবে বরাবরই বেজিংয়ের আগ্রাসনের কড়া জবাব দিয়েছে স্বশাসিত দ্বীপরাষ্ট্রটি। সম্প্রতি, হংকংয়ের গণতন্ত্রের শ্বাসরোধ করে চীনা দমননীতি ও লাদাখে লালফৌজের আগ্রাসনে অশনি সংকেত দেখছে তাইপেই। তাই লালফৌজ হামলা করলে কীভাবে জবাব দেওয়া হবে, সেই কৌশল ঝালিয়ে নিতে চলতি মাসেই সামরিক মহড়া চালিয়েছে তাইওয়ানের সেনার তিন বাহিনী। উদ্দেশ্য চীনা হানাদারদের ঠেকানো। চীনকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে মহড়া দেখতে উপস্থিত ছিলেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন। তাঁর একটাই উদ্দেশ্য দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দেবেন না তিনি চীনের কাছে।
২০১৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই চীনের বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাব নিয়েছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট।





