ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ISRO) সফলভাবে তার স্পেস ডকিং এক্সপেরিমেন্ট (SpaDeX) করেছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীনকে অনুসরণ করে ইন-স্পেস ডকিং অর্জনের জন্য চতুর্থ দেশ হিসেবে ভারতের প্রবেশকে চিহ্নিত করেছে। ১৬ই জানুয়ারী, ২০২৫-এ, সকাল ৯ টা নাগাদ এসডিএক্স ০১ – “চেজার” এবং এসডিএক্স০২ – “টার্গেট” হিসাবে মনোনীত দুটি ইসরো উপগ্রহ বহু জটিল অরবিটাল কৌশল চালায়, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ৪৭৫ কিলোমিটার উচ্চতায় একটি সফল ডকিং-এ পরিণত হয়।
উল্লেখ্য, গত ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর শ্রীহরিকোটা থেকে ইসরোর ৯৯তম উৎক্ষেপণটি হয়েছিল এবং সেই অভিযানে পিএসএলভি সি৬০-র মাধ্যমে সফলভাবে দুটি মহাকাশযানকে একটি বৃত্তাকার কক্ষপথে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। যদিও সেইসময় প্রাথমিক ভাবে এই ডকিং অভিযানে কিছুটা হোঁচট খেতে হয়েছিল ইসরোকে। কিন্তু এখন সব প্রক্রিয়া মসৃণ ভাবে চলছে বলে দাবি করেছে ইসরো। গত ৭ এবং ৯ জানুয়ারি ইসরোর তরফ থেকে দু’বার ডকিংয়ের চেষ্টা চালানো হয়েছিল যা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে তা পরিত্যাগ করা হয়েছিল। এই আবহে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, এই অভিযানে হয়ত লক্ষ্য পূরণের আগেই ইসরো হাল ছেড়ে দেবে এবং ডকিংয়ের চেষ্টা করা হবে না। তবে না ইসরো হাল ছাড়েনি।
মহাকাশে স্পেস ডকিং এর পরীক্ষা পরিচালনা করতেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরো। এর আগেও আমেরিকা, রাশিয়া এবং চিনের সফল ভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের কৃতিত্ব রয়েছে যা গত ৩০ ডিসেম্বর ৯টা ৫৮ মিনিটের পরিবর্তে ১০টায় এই রকেটের উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। স্পেস স্টেশন গঠনের ক্ষেত্রে স্পেস ডকিং এর ভূমিকা বহুল তাৎপর্যপূর্ণ। এমনকি এই অভিযান সফল হওয়ার দরুন আগামীতে আরও জটিল ডকিং সিস্টেমের পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে ইসরোর। এছাড়াও ভবিষ্যতে এই স্পেস ডকিং প্রযুক্তি মহাকাশে মানব অভিযানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এবং সমানভাবে চন্দ্রাভিযানেও এর গুরুত্ব থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই মাইলফলকের তাৎপর্যের উপর জোর দিয়েছেন, ভারতের মহাকাশ সক্ষমতাকে এগিয়ে নিতে এবং বিশ্ব মহাকাশ বাজারে দেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা তুলে ধরেছেন। ইসরো-এর চেয়ারম্যান, এস. সোমানাথ, উল্লেখ করেছেন যে এই সাফল্য ভবিষ্যত মিশনের ভিত্তি তৈরি করে, যার মধ্যে একটি দেশীয় মহাকাশ স্টেশনের উন্নয়ন এবং গভীর মহাকাশ অনুসন্ধানের উদ্যোগ রয়েছে৷
আরও পড়ুনঃ স্যালাইন কাণ্ডে দুর্নীতি! স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরকে রিপোর্ট তলবের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট !
স্পাডেক্স মিশন ডক করা স্যাটেলাইটের মধ্যে বৈদ্যুতিক শক্তির স্থানান্তরও প্রদর্শন করেছে, যা ইন-স্পেস রোবোটিক্স এবং যৌগিক মহাকাশযান নিয়ন্ত্রণের মতো অ্যাপ্লিকেশনগুলির জন্য অত্যাবশ্যক একটি ক্ষমতা। এই কৃতিত্ব মহাকাশ প্রযুক্তিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ সম্প্রদায়ে তার ভূমিকা প্রসারিত করার প্রতিশ্রুতির উপর জোর দেয়। এই উদ্যোগ বিশ্বের দরবারে আবারো ভারতকে সাফল্য অর্জন করতে সাহায্য করেছে।





