স্যালাইন কাণ্ডে দুর্নীতি! স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরকে রিপোর্ট তলবের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট !

সম্প্রতি, স্যালাইন-কাণ্ডে ঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতা হাই কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করেছে। এই ঘটনায় হাই কোর্ট স্বাস্থ্য দফতরের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে। যা জমা দিতে হবে দু সপ্তাহের মধ্যেই। তাছাড়া, আদালত রাজ্য সরকারকে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে। সোমবার স্যালাইন কাণ্ডে জোড়া জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে।

বৃহস্পতিবার হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম এবং বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ থেকে জানা গেছে, স্যালাইন প্রস্তুতকারক সংস্থার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে এবং তা নিয়ে ইতিমধ্যেই ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ জমা দিতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে। এই ঘটনা মূলত নিম্নমানের স্যালাইনের কারণে বহু রোগীর অসুস্থতা এবং কয়েকজনের মৃত্যুর অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। আদালতের এই পদক্ষেপ জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকরী ভূমিকা নিতে সাহায্য করবে।

নিম্নমানের স্যালাইন সরবরাহের কারণে বহু রোগী অসুস্থ হয়েছেন এবং কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। রাজ্যের এমন খারাপ মানের স্যালাইন ব্যবহারে কর্নাটকে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছিল। যেই কারণে ওই সংস্থাকে কর্ণাটক সরকার কালো তালিকায় পাঠিয়ে দিয়েছিলো। এই ঘটনায় হাই কোর্ট রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের কাছ থেকে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। হাই কোর্ট রাজ্য সরকারকে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানেরও নির্দেশ দিয়েছে।

প্রধান বিচারপতি শিবজ্ঞানম বলেন, “সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি দেখেছি। রাজ্য সরকার সম্ভবত কোনও পদক্ষেপও করছে।” নিম্নমানের স্যালাইনের জেরে একই দিনে সিজ়ার হওয়া পাঁচ প্রসূতি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তাঁদেরই এক জন মামনি রুইদাসের (২২) মৃত্যু হয় গত শুক্রবার সকালে। প্রায় সাত দিন ভেন্টিলেশনে থাকার পর বৃহস্পতিবার সকালে আর এক প্রসূতি রেখা সাউ মারা যায় ওই হাসপাতালে। শারীরিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক হওয়ায় রবিবার রাতে গ্রিন করিডর করে ওই তিন প্রসূতিকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল থেকে নিয়ে আসা হয় কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে। আপাতত সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাঁরা।

আরও পড়ুনঃ প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি! ভয়ঙ্কর যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার বার্তা দিলেন রাজনাথ সিং! কেন এমন হুশিয়ারী?

আদালতের মতে, সরকারের দায়িত্ব হল জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের গাফিলতি অমার্জনীয়। আদালত মনে করে, এই ধরনের ঘটনাগুলি কেবলমাত্র সাধারণ মানুষের জীবনের প্রতি ঝুঁকি সৃষ্টি করে না, বরং সরকারের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অপ্রতুলতাও প্রকাশ করে। এই ঘটনায় স্বাস্থ্য দফতর এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির দায়িত্বহীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিম্নমানের স্যালাইন সরবরাহের বিষয়টি কীভাবে ঘটে গেল এবং এর পেছনে কারা দায়ী, তা খুঁজে বের করতে আদালত সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজনীয়তা ব্যক্ত করেছে।

RELATED Articles