Jadavpur University de*ath case : “ছেলেমেয়েদের পড়তে পাঠাতে ভয় লাগে” — যাদবপুর ইউনিভার্সিটির অনামিকার মৃ*ত্যু ঘিরে শোকাস্তব্ধ প্রতিবেশী মহল!

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এক আনন্দময় জীবন হঠাৎ করেই থমকে গেল। পাড়ার সবাই আজও বিশ্বাস করতে পারছেন না যে হাসিখুশি ‘মিষ্টু’ অর্থাৎ অনামিকা মণ্ডল আর নেই। পুজোর আগের এই সময়ে শিক্ষাঙ্গনে এমন দুঃসংবাদ পেয়ে পুরো এলাকা বিষন্নতায় মোড়া। শিক্ষার আলোয় ভরা এক তৃতীয় বর্ষের ছাত্রীর অকাল মৃত্যু নিয়ে পাড়ায় এখন শুধু শোক নয়, প্রশ্নও ঘুরছে।

ললিত গুপ্ত স্ট্রিটে অনামিকার বাড়ির পাশে পুজোর প্যান্ডেলের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই সব কাজ থেমে গেল। পাড়ার মানুষদের মনে একটি প্রশ্ন ঘুরছে—ইউনিভার্সিটির ঝিলে অনামিকা কিভাবে পড়ে গেল, নাকি অন্য কোনও রহস্য লুকিয়ে আছে? পাশের বাড়ির পুষ্পিতা ভট্টাচার্য কেঁদে বললেন, “ও এত ভালো মেয়ে ছিল, সব সময় পড়াশোনা নিয়েই ব্যস্ত থাকত। ভাবতেই পারছি না, স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরা কি নিরাপদ থাকবে?”

পাড়ার সবাই অনামিকাকে ‘মিষ্টু’ নামে চেনে। হাসিখুশি, সহজ-সরল স্বভাবের এই ছাত্রী সবাইকে মুগ্ধ করত। অনামিকার কাছাকাছি থাকতেন জয়া সেনগুপ্ত। তিনি বলেন, “ওর মা কয়েকদিন আগে ব্রেন স্ট্রোক হয়েছিল। মেয়েটা ওদের ভরসা ছিল। এখন ভাবছি, ওর মা কী করবে। এত ভালো পরিবার, এত ভালো মেয়ে সব কিছু এক মুহূর্তে ভেঙে গেল।”

গত বছর মেডিক্যাল কলেজের ঘটনাও মনে করিয়ে দিচ্ছে শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। অনামিকার মৃত্যুর ঘটনায় এই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়ে উঠছে। পড়ুয়ারা কি আসলে নিরাপদ? পাড়ার মানুষরা বলছেন, “ছেলেমেয়েদের পড়তে পাঠাতে ভয় লাগে। প্রতিটি মা-বাবা এমন ভাবছে।”

আরও পড়ুনঃ Jadavpur University : যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রাতের মদের আসরের মধ্যে সাঁতার না জেনে ঝিলে নেমেছিলেন মদ্যপ অনামিকা! রহস্য*মৃত্যু ঘিরে উঠছে প্রশ্ন?

পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝিল এলাকায় নজরদারি শুরু হয়েছে। তিনটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ তল্লাশি করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়রা মনে করছেন, শুধু তদন্ত করলেই হবে না, শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা ও মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। অনামিকার অকাল মৃত্যুর এই ধাক্কা পাড়ার সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছে শিক্ষা কতটা নিরাপদ এবং আমাদের সমাজের দায়িত্ব কোথায় শেষ হয়।

আরও অন্যান্য খবর