রাজ্যের ১৬টি পুরসভায় দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ উঠেছিল যে, কর্মী নিয়োগে দুর্নীতির ছোঁয়া রয়েছে। এই নিয়োগ দুর্নীতির ঘটনা নিয়ে জনমনে অনেক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষও জানতে চাইছে, কে কীভাবে এই নিয়োগে সুবিধা নিয়েছে। এইসব প্রশ্নের উত্তরে অবশেষে সুপ্রিম কোর্ট সিবিআইকে একটি সময়সীমা দিয়েছে।
শুক্রবার বিচারপতি পি নরসিমহা এবং বিচারপতি অতুল এস চান্দুরকরের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। আদালতে সিবিআই জানায়, রাজ্যের ১৬টি পুরসভায় চলা নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে ১৫টিরই তদন্ত ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। তবে, একাধিক পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত এই তদন্ত শেষ করার জন্য তিন মাসের ‘ডেডলাইন’ নির্ধারণ করে।
এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত হুগলির ব্যবসায়ী অয়ন শীলের আইনজীবী আদালতে অভিযোগ করেন যে, তদন্ত শ্লথ গতিতে চলছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতো অয়ন শীলকেও জামিন দেওয়া হয় না, তাহলে ন্যায়বিচার কি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে? তবে সুপ্রিম কোর্ট অয়নের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন।
তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই জানিয়েছে, ২০১৬ সালের পর থেকে উত্তর ২৪ পরগনার ছয়টি পুরসভা সহ রাজ্যের মোট ১৬টি পুরসভায় কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল। অভিযোগ, নিয়োগের দায়িত্ব অয়ন শীলের সংস্থা এবিএস ইনফোজ়োনের উপর ছিল। বিশেষজ্ঞের বদলে অয়ন নিজেই কয়েক জন কর্মীর মাধ্যমে পরীক্ষার বন্দোবস্ত করেছিলেন। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে এই নিয়োগে কোন অস্বচ্ছতা আছে কি না, সেই বিষয়েও তদন্ত শুরু হয়।
আরও পড়ুনঃ “ওর মা’র কয়েকদিন আগে ব্রেন স্ট্রোক হয়েছিল। মেয়েটা ওদের ভরসা ছিল। এখন ভাবছি, ওর মা কী করবে।” — যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনামিকার অকাল মৃ*ত্যু মেনে নিতে পারছেন না প্রতিবেশী মহল!
তদন্ত চলাকালীন সময়ে অয়ন শীলের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালিয়ে পুরসভার নিয়োগ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এভাবে ধীরে ধীরে সব তথ্য উঠে আসছে। এখন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তিন মাসের মধ্যে পুরো মামলা তদন্ত শেষ করতে হবে। সাধারণ মানুষের চোখ এখন আদালত ও সিবিআইয়ের দিকে, যেন এই দীর্ঘদিনের রহস্যের সত্যতা স্পষ্ট হয় এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পায়।






