র্যাগিং নিয়ে নানান সময় নানান খবর উঠে এসেছে। র্যাগিংয়ের জেরে কত তরতাজা প্রাণ যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে, তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু তাও কলেজ ক্যাম্পাসে এই র্যাগিং বন্ধ হয়নি। গত বছরই র্যাগিংয়ের শিকার হয়ে মৃত্যু হয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্রের। এবার ফের র্যাগিংয়ের বলি এক মেডিক্যাল পড়ুয়া।
জানা গিয়েছে, মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হওয়ার পর সিনিয়রদের কাছে নতুন ভর্তি হওয়া মেডিক্যাল পড়ুয়াদের পরিচয় পর্ব চলছিল। যার পোশাকি নাম ‘ইন্ট্রোডাকশন’ পর্ব। কিন্তু তা সাধারণ কোনও পরিচয় পর্ব ছিল না। এর আড়ালে চলছিল নতুন পড়ুয়াদের র্যাগিং করা। অভিযোগ, অনিল মেথানিয়া নামের এক প্রথম বর্ষের চিকিৎসক পড়ুয়াকে র্যাগিং করে সিনিয়ররা।
জানা গিয়েছে, র্যাগিংয়ের নামে ৩ ঘণ্টার বেশি দাঁড় করিয়ে রাখে হয় ওই পড়ুয়াকে। এরপর অজ্ঞান হয়ে যায় পড়ুয়া। এমন অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জ্ঞান ফিরলে পুলিশকে সিনিয়রদের বিরুদ্ধে র্যাগিংয়ের অভিযোগ করে সে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই মৃত্যু হয় ওই পড়ুয়ার। মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট এলে মৃত্যুর কারণ ও পড়ুয়ার উপর ঠিক কী কী নির্যাতন চলছে, সে সম্বন্ধে জানা যাবে।
এই ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাতের ধারপুর পাটনে জিএমইআরএস মেডিক্যাল কলেজে। জানা গিয়েছে, এই মেডিক্যাল কলেজ থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে সুরেন্দ্রনগরে বাড়ি ওই পড়ুয়ার। রবিবার কলেজ থেকে অনিলের বাড়িতে ফোন যায় যে সে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছে। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিবারের লোকজন সেখানে গিয়ে র্যাগিংয়ের বিষয়ে জানতে পারেন। দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবী তোলা হয়েছে পরিবারের তরফে।
আরও পড়ুনঃ হাতে কাঁচি নিয়ে সকলকে ভয়, আচমকাই হাসপাতালের ছাদ থেকে ঝাঁপ রোগীর, তুমুল উত্তেজনা, নিরাপত্তা কোথায় সরকারি হাসপাতালে?
এই ঘটনা প্রসঙ্গে মেডিক্যাল কলেজের ডিন হার্দিক শাহ বলেন, “ওই পড়ুয়া অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে আমরা হাসপাতালে ভর্তি করি। পরে জানতে পারি তাঁর সঙ্গে র্যাগিংহয়েছে। পুলিশ ও পরিবারকে গোটা বিষয়টা জানানো হয়েছে। এই ঘটনা যাতে না ঘটে তার কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে ওই ছাত্রের বাবা পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। আমরা গোটা ঘটনার তদন্ত করছি”।





