দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে আবারও মুখ্য চরিত্র হিসেবে উঠে এসেছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নাম, যিনি একসময় দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন। তবে এই নির্বাচনে দিল্লিবাসী তাঁর প্রতি আগের মতো আস্থা দেখাল না। বিভিন্ন বিতর্কের মধ্যে দিয়ে কেজরিওয়ালের শাসন শেষ হয়ে যাচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে। এই নির্বাচনের ফলাফল, কেজরিওয়ালের প্রতি জনগণের মনোভাব এবং তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্লেষকরা নানা মন্তব্য করছেন।
অরবিন্দ কেজরিওয়াল, যিনি একসময় দিল্লির দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন, এবার তার শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। ২০১১ সালে আন্না হাজারে নেতৃত্বাধীন দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনে তাঁর অংশগ্রহণ, তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অঙ্গীকার এবং সশক্ত ভূমিকা দিল্লির জনগণের কাছে তাঁকে বিশেষ স্থান এনে দেয়। তবে ২০২৫ সালের নির্বাচনে সেই আস্থা কোথায় হারাল? এমন প্রশ্ন সামনে এসেছে।
কেজরিওয়াল মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর, তার বিরুদ্ধে বহু বিতর্ক ও মামলার খবর এসেছে। বিশেষ করে আবগারি দুর্নীতি মামলায় তাঁর গ্রেফতারির পর, দলের অন্যান্য নেতাদেরও শাস্তি হয়েছে। গত বছর তাঁর বিরুদ্ধে ‘শিশমহল’ বিতর্ক ওঠে, যেখানে জনগণের টাকায় কেজরিওয়াল তাঁর বাসভবনকে বিলাসবহুলভাবে সাজানোর অভিযোগ ওঠে। এতে তাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তির উপর প্রশ্ন ওঠে এবং জনগণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
কেজরিওয়াল যদি প্রথমে স্বচ্ছতার প্রতীক হয়ে উঠতে পেরেছিলেন, তবে আজকের পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। তাঁর বিরোধীরা বলেন, যেসব প্রতিশ্রুতি তিনি দিল্লির জনগণকে দিয়েছিলেন, তা পূর্ণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পরিবহণ ব্যবস্থায় কিছুটা উন্নতি হলেও, প্রতিটি ক্ষেত্রে নতুন নতুন সমস্যার উদ্ভব হয়েছে। কর্মসংস্থান, নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রেও জনগণের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
এমনকি কংগ্রেসের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েনও কেজরিওয়ালের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলেছে। দিল্লি নির্বাচনে কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টির মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা ছিল। কংগ্রেসের নেতারা কেজরিওয়ালকে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বলেও মন্তব্য করেছেন, যা তাঁর রাজনৈতিক মেরুকরণের একটি বড় অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনের প্রচারে এমন নানা বিরোধী বক্তব্য এবং সাধারণ মানুষের অসন্তোষ তাঁর প্রতি আস্থা কমিয়ে দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ২৭ বছর পর দিল্লিতে বিজেপি’র ঐতিহাসিক আগমন! রাত ৭:৪৫ -এ বিজেপি সদর দপ্তরে উন্মোচিত হবে নতুন যুগ!
তবে সবচেয়ে বড় অবাক করা ব্যাপার হলো, নির্বাচনের ফলাফল। কেজরিওয়াল নিজেই নয়াদিল্লি আসনে পিছিয়ে আছেন। বিজেপি একাধিক আসনে এগিয়ে, এবং কেজরিওয়াল তার শাসন ফিরে পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। এই ফলাফল দিল্লির জনগণের পরিবর্তিত মনোভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা কেজরিওয়ালের রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।





