এবার যেন সাঁড়াশির চাপে আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ। দুটি পৃথক মামলার জেরে আপাতত তো জেলে রয়েছেন তিনি, তবে এবার মনে হচ্ছে তাঁর মাথার উপরের ছাদটাও হয়ত আর থাকবে না। বেআইনিভাবে চারতলা বাড়ি তৈরির অভিযোগ উঠেছে সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে। সেই বাড়িতে নোটিশ সাঁটাল পুরসভা।
বেলেঘাটায় চারতলা বাড়ি রয়েছে সন্দীপ ঘোষের। কিন্তু অভিযোগ, সেই বাড়ির বেশ অনেকটা অংশ বেআইনিভাবে বাড়িয়ে তৈরি করা হয়েছে। বাড়ির কিছু অংশও বেআইনিভাবে তৈরি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ২৬ সেপ্টেম্বর সেই বাড়ি খতিয়ে দেখতে যান পুরসভার আধিকারিকরা।
সূত্রের খবর, সব খতিয়ে দেখে নোটিশ দেওয়া হয়েছে ওই বাড়িতে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর সন্দীপ ঘোষের পরিবারের কোনও সদস্যকে এই বেআইনি নির্মাণ নিয়ে পুরনিগমে জবাব দিতে হবে। বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে সন্দীপ ঘোষের ওই চারতলা বাড়ি ভেঙে ফেলবে পুরসভা।
প্রসঙ্গত, শুধুমাত্র এই একটি বাড়িই নয়, সন্দীপ ও তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতার একাধিক সম্পত্তির হদিশ পেয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। উদ্ধার হয়েছে অসংখ্য নথি। সে সব ঘেঁটে জানা গেছে, মুর্শিদাবাদে একটি ও কলকাতায় তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে সন্দীপ-সঙ্গীতার। এছাড়াও তাদের কলকাতায় দু’টি বাড়ি রয়েছে। ক্যানিংয়ে একটি বাগানবাড়িও রয়েছে সন্দীপ ঘোষের, এমনটাই খবর।
উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট আর জি করের সেমিনার হল থেকে উদ্দজার হয়েছিল তরুণী চিকিৎসকের ক্ষতবিক্ষত দেহ। সেই ঘটনায় প্রথম থেকেই আর জি করের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। অধ্যক্ষ পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। সিবিআউ তদন্ত শুরু করলে টানা ১৬ দিন হাজিরা দিয়েছিলেন সিবিআই দফতরে।
এরই মধ্যে আর জি করের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আর জি করে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ আনেন। সেই ঘটনায় সিবিআই তদন্ত শুরু করলে সন্দীপ ঘোষকে গ্রেফতার করে তারা। এরপর আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনাতেও ফের গ্রেফতার হন সন্দীপ ঘোষ। আপাতত তাঁর মাথায় ঝুলছে দুটি পৃথক মামলা। আর এবার তাঁর মাথার উপরের ছাদ নিয়েও তৈরি হল অনিশ্চয়তা। বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে সেই বাড়ি ভাঙা হতে পারে।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার